Archive for the ‘Partners’ Category


এই লেখাটির উদ্দেশ্য হলো পলাশীর সেই বিশ্বাসঘাতকদের শেষ পরিণতি যা হয়েছিল তার স্বরুপ পাঠকদের স্বম্মুখে উন্মোচন।ইতিহাসের ছাত্র নই, ইচ্ছা ছিলো সাহিত্য অথবা সাংবাদিকতা নিয়ে পড়ার কিন্ত বাস্তবতার পিছুটান আর পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে শেষ পর্যন্ত হয়ে গেলাম ব্যবসায় প্রশাসনের ছাত্র।তাই ইতিহাসনির্ভর একটি নিবন্ধ যেমন তথ্যপ্রাচুর্যতা ও শতভাগ শুদ্ধতার দাবী রাখে, সেই দাবী মেটাতে এই নিবন্ধ হয়তো কিঞ্চিৎ ব্যর্থ। তাই শুরুতেই এই নিবন্ধটির অজানা ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য পাঠকদের নিকট ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
লেখাটির প্রধান উদ্দেশ্য হলো সেই খলনায়কদের শেষ জীবনের প্রতি দৃষ্টিপাত করা যাদের কারণে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিলো। আসুন দেখে নেয়া যাক, সেই খলনায়ক ও বিশ্বাসঘাতকদের শেষ পরিণতি কি হয়েছিলোঃ

লর্ড-ক্লাইভ
বাংলায় ব্রিটিশ ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর দোর্দন্ড প্রতাপশালী প্রধান ছিলেন লর্ড ক্লাইভ।পলাশীর যুদ্ধে ও যুদ্ধপরবর্তী তার নিষ্ঠুরতা বর্ণণার’ও অযোগ্য।যুদ্ধপরবর্তী সময়ে হত্যা,ধর্ষণ,সম্পদ-লুটতরাজসহ বিবিধ অপকর্মে লিপ্ত হয় এই সাদা চামড়া ও তার হায়েনাবাহিনী।নবাব পরিবারের সাথে তার নিষ্ঠুর আচরণে আজো কেপে উঠে যে কেনো বিবেকবান মানুষের হৃদয়। লর্ড-ক্লাইভের নিষ্ঠুরতার বর্ণনা দিতে গিয়ে বিদ্রোহী কবি নজরুল লিখেছিলেন

“বাঙ্গালীর খুনে লাল হলো হেথা ক্লাইভের খঞ্জর,

       ঐ গঙ্গায় ডুবিয়াছে ভাই ভারতের দিবাকর”

কিন্তূ ভাগ্যর কি নির্মম পরিহাস, এই দোর্দন্ড প্রতাপশালীর শেষ জীবন কাটে নিদারুন অর্থকষ্টে।যুদ্ধপরবর্তী সময়ে হত্যা,ধর্ষণ,সম্পদ-লুটতরাজ,রাষ্ট্রীয় তহবিল তছরুপ,অস্বচ্ছ হিসাব প্রদানসহ বহু অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠে স্বয়ং ব্রিটিশ মিডিয়া। ব্রিটিশ হাউস-অব-কমন্স’এর সদস্যরাও তার অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে উঠেন।অব্যাহত প্রতিবাদের মুখে তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে হউস-অব-লর্ডস।দীর্ঘদিন এই তদন্ত কমিটির শুনানীতে তাকে অংশ নিতে হয় এবং আনীত অভিযোগ মোকাবেলায় আইনী খরচ মেটাতে বাংলা হতে লুটকৃত সমস্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়। এক পর্যায়ে ব্রিটিশ সরকার তার সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে। ফলে, শেষ জীবনে সর্বস্ব খুইয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন ক্লাইভ এবং তার পরিবারের সদস্যরাও তাকে ত্যাগ করে চলে যায়।হতদরিদ্র অবস্থায় চরম হতাশাবোধ থেকে শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন ক্লাইভ। হায়,পলাশীর সেই বিজয়ী বীর(!) কিনা শেষ পর্যন্ত কাপুরুষের মতো পৃথিবী ত্যাগ করতে বাধ্য হন। এই ছিলো লর্ড ক্লাইভের শেষ পরিণতি।

মীরজাফর
বর্তমানে বাংলা ভাষায় বিশ্বাসঘাতকতার প্রতিশব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয় মীরজাফর নামটি। পুরো নাম মীর জাফর আলী খান। এই বিস্বাসঘাতক স্বপ্ন দেখতো একদিন সে বাংলার নবাব হবে।এই ইচ্ছা পূরণ করতে গিয়ে ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর সাথে ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় মীর জাফর।দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এই বিস্বাসঘাতক বাংলার নবাব হতে পারলেও তার এই সুখ বেশীদিন স্থায়ী হয়নি। অল্প কিছুদিনের মাঝেই তার ব্রিটিশ প্রভুরা তাকে আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করে,তাকে নবাব পদ থেকে সড়িয়ে দেওয়া হয়। শেষ জীবনে তাকেও অর্থকষ্টে দিনাতিপাত করতে হয়। এক পর্যায়ে কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ রোগভোগের পর মারা যায় বেইমান মীর জাফর আলী খান। কথিত আছে,কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তার গায়ের চামড়া পচে খসে পড়ে যায়। এই ছিলো বেইমান মীরজাফরের শেষ পরিণতি।

মীর কাসিম

পলাশীর আরেক খলনায়ক মীর কাসিম। ব্রিটিশদের তাবেদারী করে বাংলার নবাব হতে পারলেও এক পর্যায়ে তাকেও আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করে ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানী। ফলে,মীর কাসিমের সাথে ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর যুদ্ধ হয় যা ইতিহাসে “বক্সারের যুদ্ধ” নামে পরিচিত। বক্সারের যুদ্ধে পরাজিত হয়ে দিল্লী পালিয়ে যান মীর কাসিম।দিল্লীরপথে-প্রান্তরে শতচ্ছিন্ন বস্ত্রে অবস্থানকালীন সময়ে এক পর্যায়ে দিল্লী জামে মসজিদের নিকট মৃত্যুবরণ করেন মীর কাসিম।শেষ জীবনে ভিখারী দশায় মীর কাসিমকে মৃত্যুবরণ করতে হয়।

ঘষেটি বেগম

সম্পর্কে ঘষেটি বেগম ছিলেন নবাব সিরাজউদ্দৌলার আপন খালা।ঘষেটি বেগম স্বপ্ন দেখতেন তিনি হবেন বাংলার প্রথম মহিলা নবাব।এই ইচ্ছা বাস্তবায়নের জন্য তিনিও হাত মেলান ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর সাথে।প্রাসাদের সকল গোপনীয় তথ্য ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর কাছে পাচার করতো এই উচ্চভিলাষী বিস্বাসঘাতক রমণী। পলাশীর যুদ্ধের পর মীরজাফরপুত্র মীরন উপলব্ধি করতে পারে তার পিতার নবাব হবার পথে সবচেয়ে বড় বাধা ঘষেটি বেগম।তাই মীরন চক্রান্ত করে ঢাকার অদুরবর্তী ধলেশ্বরী নদীতে নৌকা ডুবিয়ে ঘষেটি বেগমকে হত্যা করে।এভাবেই এক ষড়যন্ত্রকারীর হাতে আরেক ষড়যন্ত্রকারীর হয় সলিল সমাধি।

মীরন
পলাশীর যুদ্ধের আরেক ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রকারী হলো মীরন। তার নির্দেশেই মোহাম্মাদী বেগ নির্মমভাবে নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে হত্যা করে। মীরনের মৃত্যু হয় বজ্রপাতে।

জগত শেঠ
পলাশীর যুদ্ধের অন্যতম ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রকারী হলো জগত শেঠ। কাশিমবাজার ষড়যন্ত্রের প্রধানতম নায়ক এই জগত শেঠ। তার পরিণতি ছিলো আরো ভয়ংকর। মীর কাসিমের নির্দেশে বিহারের “মুঙ্গের দুর্গ” থেকে বস্তাবন্দী করে তাকে নদীতে ফেলে হত্যা করা হয়।এক্ষেত্রেও পরিলক্ষিত হয় যে, এক ষড়যন্ত্রকারীর হাতে আরেক ষড়যন্ত্রকারীর হয় সলিল সমাধি।

উমিচাঁদ
কাশিমবাজার ষড়যন্ত্রের আরেক নায়ক উমিচাঁদ। দেশের সাথে বিস্বাসঘাতকতা করে ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর সাথে যোগ দিলেও মজার ব্যাপার হলো বিস্বাসভঙ্গের অপরাধে তাকেই সাজা দেয় ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানী।অর্থাৎ যার জন্য সে করলো চুরি,তারাই তাকে বললো চোর। উমিচাঁদের সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়।কপর্দকহীন নিঃস্ব অবস্থায় তাকে মৃত্যুবরণ করতে হয়।

নন্দকুমার
নন্দকুমারকেও উমিচাঁদের পরিণতি বরণ করতে হয়।তহবিল তছরুপের অভিযোগে তাকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলানো হয়।

এই ছিলো পলাশীর খলনায়ক ও বিস্বাসঘাতকদের শেষ পরণতি। প্রত্যেককেই নির্মমভাবে মৃত্যুবরণ করতে হয়। সবচেয়ে চিত্তাকর্ষক যে ব্যাপারটি সেটি হলো, এক বিস্বাসঘাতকের হাতে হয় আরেক বিস্বাসঘাতকের মৃত্যু। কথায় আছে, “History Repeats Itself’’.তারা যে বিস্বাসঘাতকতা দেশের সাথে করে,সেই একই বিস্বাসঘাতকতার পুনরাবৃত্তি তাদের জীবনেও ঘটে।আর এভাবেই বিস্বাসঘাতকরা ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়।

এই লেখাটির উদ্দেশ্য হলো পলাশীর সেই বিশ্বাসঘাতকদের শেষ পরিণতি যা হয়েছিল তার স্বরুপ পাঠকদের স্বম্মুখে উন্মোচন।ইতিহাসের ছাত্র নই, ইচ্ছা ছিলো সাহিত্য অথবা সাংবাদিকতা নিয়ে পড়ার কিন্ত বাস্তবতার পিছুটান আর পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে শেষ পর্যন্ত হয়ে গেলাম ব্যবসায় প্রশাসনের ছাত্র।তাই ইতিহাসনির্ভর একটি নিবন্ধ যেমন তথ্যপ্রাচুর্যতা ও শতভাগ শুদ্ধতার দাবী রাখে, সেই দাবী মেটাতে এই নিবন্ধ হয়তো কিঞ্চিৎ ব্যর্থ। তাই শুরুতেই এই নিবন্ধটির অজানা ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য পাঠকদের নিকট ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
লেখাটির প্রধান উদ্দেশ্য হলো সেই খলনায়কদের শেষ জীবনের প্রতি দৃষ্টিপাত করা যাদের কারণে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিলো। আসুন দেখে নেয়া যাক, সেই খলনায়ক ও বিশ্বাসঘাতকদের শেষ পরিণতি কি হয়েছিলোঃ
লর্ড-ক্লাইভ
বাংলায় ব্রিটিশ ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর দোর্দন্ড প্রতাপশালী প্রধান ছিলেন লর্ড ক্লাইভ।পলাশীর যুদ্ধে ও যুদ্ধপরবর্তী তার নিষ্ঠুরতা বর্ণণার’ও অযোগ্য।যুদ্ধপরবর্তী সময়ে হত্যা,ধর্ষণ,সম্পদ-লুটতরাজসহ বিবিধ অপকর্মে লিপ্ত হয় এই সাদা চামড়া ও তার হায়েনাবাহিনী।নবাব পরিবারের সাথে তার নিষ্ঠুর আচরণে আজো কেপে উঠে যে কেনো বিবেকবান মানুষের হৃদয়। লর্ড-ক্লাইভের নিষ্ঠুরতার বর্ণনা দিতে গিয়ে বিদ্রোহী কবি নজরুল লিখেছিলেন
“বাঙ্গালীর খুনে লাল হলো হেথা ক্লাইভের খঞ্জর,
ঐ গঙ্গায় ডুবিয়াছে ভাই ভারতের দিবাকর”
কিন্তূ ভাগ্যর কি নির্মম পরিহাস, এই দোর্দন্ড প্রতাপশালীর শেষ জীবন কাটে নিদারুন অর্থকষ্টে।যুদ্ধপরবর্তী সময়ে হত্যা,ধর্ষণ,সম্পদ-লুটতরাজ,রাষ্ট্রীয় তহবিল তছরুপ,অস্বচ্ছ হিসাব প্রদানসহ বহু অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠে স্বয়ং ব্রিটিশ মিডিয়া। ব্রিটিশ হাউস-অব-কমন্স’এর সদস্যরাও তার অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে উঠেন।অব্যাহত প্রতিবাদের মুখে তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে হউস-অব-লর্ডস।দীর্ঘদিন এই তদন্ত কমিটির শুনানীতে তাকে অংশ নিতে হয় এবং আনীত অভিযোগ মোকাবেলায় আইনী খরচ মেটাতে বাংলা হতে লুটকৃত সমস্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়। এক পর্যায়ে ব্রিটিশ সরকার তার সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে। ফলে, শেষ জীবনে সর্বস্ব খুইয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন ক্লাইভ এবং তার পরিবারের সদস্যরাও তাকে ত্যাগ করে চলে যায়।হতদরিদ্র অবস্থায় চরম হতাশাবোধ থেকে শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন ক্লাইভ। হায়,পলাশীর সেই বিজয়ী বীর(!) কিনা শেষ পর্যন্ত কাপুরুষের মতো পৃথিবী ত্যাগ করতে বাধ্য হন। এই ছিলো লর্ড ক্লাইভের শেষ পরিণতি।
মীরজাফর
বর্তমানে বাংলা ভাষায় বিশ্বাসঘাতকতার প্রতিশব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয় মীরজাফর নামটি। পুরো নাম মীর জাফর আলী খান। এই বিস্বাসঘাতক স্বপ্ন দেখতো একদিন সে বাংলার নবাব হবে।এই ইচ্ছা পূরণ করতে গিয়ে ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর সাথে ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় মীর জাফর।দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এই বিস্বাসঘাতক বাংলার নবাব হতে পারলেও তার এই সুখ বেশীদিন স্থায়ী হয়নি। অল্প কিছুদিনের মাঝেই তার ব্রিটিশ প্রভুরা তাকে আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করে,তাকে নবাব পদ থেকে সড়িয়ে দেওয়া হয়। শেষ জীবনে তাকেও অর্থকষ্টে দিনাতিপাত করতে হয়। এক পর্যায়ে কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ রোগভোগের পর মারা যায় বেইমান মীর জাফর আলী খান। কথিত আছে,কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তার গায়ের চামড়া পচে খসে পড়ে যায়। এই ছিলো বেইমান মীরজাফরের শেষ পরিণতি।
মীর কাসিম
পলাশীর আরেক খলনায়ক মীর কাসিম। ব্রিটিশদের তাবেদারী করে বাংলার নবাব হতে পারলেও এক পর্যায়ে তাকেও আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করে ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানী। ফলে,মীর কাসিমের সাথে ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর যুদ্ধ হয় যা ইতিহাসে “বক্সারের যুদ্ধ” নামে পরিচিত। বক্সারের যুদ্ধে পরাজিত হয়ে দিল্লী পালিয়ে যান মীর কাসিম।দিল্লীরপথে-প্রান্তরে শতচ্ছিন্ন বস্ত্রে অবস্থানকালীন সময়ে এক পর্যায়ে দিল্লী জামে মসজিদের নিকট মৃত্যুবরণ করেন মীর কাসিম।শেষ জীবনে ভিখারী দশায় মীর কাসিমকে মৃত্যুবরণ করতে হয়।
ঘষেটি বেগম
সম্পর্কে ঘষেটি বেগম ছিলেন নবাব সিরাজউদ্দৌলার আপন খালা।ঘষেটি বেগম স্বপ্ন দেখতেন তিনি হবেন বাংলার প্রথম মহিলা নবাব।এই ইচ্ছা বাস্তবায়নের জন্য তিনিও হাত মেলান ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর সাথে।প্রাসাদের সকল গোপনীয় তথ্য ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর কাছে পাচার করতো এই উচ্চভিলাষী বিস্বাসঘাতক রমণী। পলাশীর যুদ্ধের পর মীরজাফরপুত্র মীরন উপলব্ধি করতে পারে তার পিতার নবাব হবার পথে সবচেয়ে বড় বাধা ঘষেটি বেগম।তাই মীরন চক্রান্ত করে ঢাকার অদুরবর্তী ধলেশ্বরী নদীতে নৌকা ডুবিয়ে ঘষেটি বেগমকে হত্যা করে।এভাবেই এক ষড়যন্ত্রকারীর হাতে আরেক ষড়যন্ত্রকারীর হয় সলিল সমাধি।
মীরন
পলাশীর যুদ্ধের আরেক ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রকারী হলো মীরন। তার নির্দেশেই মোহাম্মাদী বেগ নির্মমভাবে নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে হত্যা করে। মীরনের মৃত্যু হয় বজ্রপাতে।

জগত শেঠ
পলাশীর যুদ্ধের অন্যতম ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রকারী হলো জগত শেঠ। কাশিমবাজার ষড়যন্ত্রের প্রধানতম নায়ক এই জগত শেঠ। তার পরিণতি ছিলো আরো ভয়ংকর। মীর কাসিমের নির্দেশে বিহারের “মুঙ্গের দুর্গ” থেকে বস্তাবন্দী করে তাকে নদীতে ফেলে হত্যা করা হয়।এক্ষেত্রেও পরিলক্ষিত হয় যে, এক ষড়যন্ত্রকারীর হাতে আরেক ষড়যন্ত্রকারীর হয় সলিল সমাধি।

উমিচাঁদ
কাশিমবাজার ষড়যন্ত্রের আরেক নায়ক উমিচাঁদ। দেশের সাথে বিস্বাসঘাতকতা করে ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর সাথে যোগ দিলেও মজার ব্যাপার হলো বিস্বাসভঙ্গের অপরাধে তাকেই সাজা দেয় ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানী।অর্থাৎ যার জন্য সে করলো চুরি,তারাই তাকে বললো চোর। উমিচাঁদের সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়।কপর্দকহীন নিঃস্ব অবস্থায় তাকে মৃত্যুবরণ করতে হয়।

নন্দকুমার
নন্দকুমারকেও উমিচাঁদের পরিণতি বরণ করতে হয়।তহবিল তছরুপের অভিযোগে তাকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলানো হয়।
এই ছিলো পলাশীর খলনায়ক ও বিস্বাসঘাতকদের শেষ পরণতি। প্রত্যেককেই নির্মমভাবে মৃত্যুবরণ করতে হয়। সবচেয়ে চিত্তাকর্ষক যে ব্যাপারটি সেটি হলো, এক বিস্বাসঘাতকের হাতে হয় আরেক বিস্বাসঘাতকের মৃত্যু। কথায় আছে, “History Repeats Itself’’.তারা যে বিস্বাসঘাতকতা দেশের সাথে করে,সেই একই বিস্বাসঘাতকতার পুনরাবৃত্তি তাদের জীবনেও ঘটে।আর এভাবেই বিস্বাসঘাতকরা ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়।

 

read more from our partners ReflectiveTeens

Advertisements

KRITIKA | from the pen of heart

Posted: November 18, 2014 by Ansu in Editorial, Kritika @ KIIT

In Hindu mythology KRITIKA refers to the six damsels or ‘gandharva-kanyas‘ who adopted Lord Shiva’s son as the fruit of their worship to the lord as Kumar was cared and brought up by six kritika he was popularly called Kartikeya. Kartikeya was a great warrior and at the same he was an even greater scholar and Kritika’s are the mothers of this scholar and so they are also scholars. Another story from the mythology refer to kritikas are the 7-learned sages called the saptarishis who reside in the sky as stars or kritikas. In either of the case kritika means the literary star or  scholars.We here at Kalinga Institute of Industrial Technology (KIIT University) consider all our writers our stars and hence a magazine published by them is aptly christened  KRITIKA.

KIIT & KISS University and its Founder Dr. Achyuta Samanta are not just household names of Odisha but also a global brand of education in India. As the mouthpiece of this university Kritika-the annual student’s magazine is pledged to show-case our literary talent to the world. Kritika in its previous editions have had the privilege of being associated with some of the best authors of our time starting from Padmashree Dr. Ruskin Bond to the new youth authors like Mr. Ravinder Singh. This society has been able to promote its writer giving them the best of best platforms to showcase the power of their pen. The university has produced many young authors who have gone up to achieve national fame as upcoming youth authors. KIIT best known worldwide for its educational and skill development activities is constantly encouraging the budding writers to express the feelings of their heart through their pen. Thus Kritika as we call it “dil ke kalaam se” is the display of our students creativity. We here at kritika are not just publishing stories(fiction and nonfiction),essays, poems and personal accounts but here we are publishing jokes, shayaris, sketches,photos,screenplays,newsletters, and anything and everything that is a sign of  literary creativity. The magazine is containing articles in English,Hindi and Odiya exhibiting a perfect balance of international, national and regional appeal. Our writers are blessed with god’s grace and their thoughts will make you think about it for a while. through kritika we  try to cover the diversities of life in the most creative way that can stay for ages to come.

We at kritika believe that life is an on-going serial whose episodes are best compiled from the pen of the heart. Some screenplays draw high TRP and some don’t but all the episodes are written honestly with genuine thoughts. We believe Kritika is one of those rare magazines which features the thoughts and expressions of the best of best brains of today’s time starting from a medico  to an engineer to a lawyer to a scientist or to an artist. And to make this star of KIIT world renowned we are proud to have associated ourselves with campuswriting. We hope and believe that this platform given to us by campuswriting will  give both of us mutual glories. The writing stars of Kritika will feel honored and work in producing better works and make not just themselves but also KIIT and campuswriting proud……

the team @ Kritika | KIIT

Ansuman Kar, Coordinator

The Beacon in the Dark

Posted: November 13, 2014 by Ansu in Kritika @ KIIT, Writes...
Tags: , ,

The ancient Indian scriptures have described ‘Prakruti’ or ‘Nature’ as a woman who gives birth and nourishes all the living organisms on this Earth. Man without woman is incomplete but it’s sad that even today she is considered to be man’s subordinate or slave. With passage of time human beings have developed but their humanity has under-developed. Earlier when man was not so developed our scriptures say women was a respected mother, wife, sister and daughter. But today it’s a matter of shame that woman is only looked as a mean to satisfy man’s vulturous desires, she is expected to oblige the atrocities done to her and she is called just a ‘Child bearing machine. Today when we talk of woman empowerment, gender bias,50% reservation, woman education and protection they sound more like an electoral promise rather than a since effort to change the society. Had there been sincere effort then everyday news like ‘A women in NCR is Gang raped’ or ‘The police excavated 4 female fetus from the hospital bin’ or ‘ A bride burnt alive by in-laws’ won’t appear. But among this dark cloud of inhumanity there must be a silver-lining somewhere, in some part of this world. My hope to find such a place is not dream  in whose search I am still roaming…….

…Roaming roaming I once reached Jhuma village, a typical Maharastrian village few meters away from the famous Shani Shingnapur temple. From outside  it looks like any other village of India but what made it authentic Maharastrian was the dress-code of the villagers. The men were in all white dhoti and white shirt with a ‘Gandhi-topi’ on their head and women were wearing sarees in the same way as men wear dhoti and have their nose pierced with a nose ring. They were wearing flower garlands (‘Gajara’).I had heard a lot about how Maharastrians respect women and especially this village was considered as an ideal village where women is treated as a women and not as someone who ‘owe-men’. My host for that night was Mr. Ramdhin Patil the village headman. Mr. Patil was a very learned man and so was his wife Mrs. Patil. God has been too harsh to this ever-helping couple as even after 35yrs of marriage they don’t have any child of their own.Mrs. Patil was a very cheerful lady and was always eager to help young children like myself without any selfish motive. That night Mr. Patil told me the history of Jhuma Village and actual reason behind Mrs.Patil’s this selfless service.

Mr. Dhinanath Patil, Mr. Patil’s father was the village headman then when Mrs. Patil got pregnant. Mr. Patil (senior) ordered his wife (Mr. Patil’s mother) to get the child’s sex determined. Sex determination though illegal was a rampart practice in those days. Unfortunately the family came to know that Mrs. Patil is carrying a girl child. Being the head of the family as well as of the village this child was not acceptable to senior Patil so he ordered the child be dropped immediately. Mrs. & Mr. Patil both were against this decision, their life was made a hell and with pressure mounting from outside too the matter was going out of control. The poor child finally succumbed to an internal conspiracy. Mrs. Patil was poisoned and the poor ‘Barbie’ died inside her mother’s womb. Since then the couple didn’t have any child. “Mr. Ramdhin after becoming the village headman worked against all odds to make Jhuma village an ideal village of the state where woman is respected like nowhere else” this is what I had googled about this village before coming here. But the reality seemed to be something else.

Mr.Ramdhin took me to an isolated building that night at the dead-end of the village. There late in midnight I saw Mrs. Patil nursing a young adolescent girl, beside her few more girls of same age group were sleeping. There was an old widow singing some bhajan near the window looking at the sky with tears rolling down her wrinkled cheeks. Next to the old widow few married women were sitting with pale face and burnt hands and legs. Amongst all of them was Mrs. Patil working tirelessly with a smile on her face. That sight of misery shattered the deepest corner of my heart. “What is this?? Is this the place where woman is respected like nowhere else or like everywhere else?? “Probably Google was wrong this time that’s what I was thinking when I was proved wrong yet again. Jhuma village no doubt was suffering from the disease of inhumanity towards woman but since last one year there is total change in the scenario due to the village’s sincere effort to change. Mrs. Patil like a crusader was leaving no stone unturned to make this village an ideal place for women.

Since the time see lost her child she took up this task of saving girl child. Against all odds in the middle of the night she nursed the sufferers in that haunted house. The old widow narrated the story of transition of Jhuma Village. According to her the 8odd women including her are last victims. The small girl whom Mrs. Patil was nursing was raped by a group of brats who are now in jail due to Mrs. Patil’s sincere efforts. The brides who were discarded from the houses of their in-laws are learning to live independently by stitching clothes and making clay pots. The widow is non-other than Mrs.Patil’s mother-in-law. She was repenting for her sins. Today when the entire society abandoned her for being a widow it is Mrs. Patil who gave her shelter forgetting what she did to kill her child.

“Mrs. Patil you are an angel in human flesh” I uttered spontaneously after hearing all this. In reply she said “Today woman is backward because she is not imbibing her inner strengths. Woman is allowing herself to become a toy of joy for men because she things man is more powerful. In this world no one fights for other’s rights, everyone fight for themselves. Woman should also fight for what is her right. Expecting 50% reservation or national & international programs or Women days to change our life is a foolishness. If woman can discover her inner strength then why only Jhuma village every village in the country can be an ideal village.” Those words were very touchy. The question that still remained was that if Mrs. Patil was the main revolutionary then why Mr. Patil was credited? The answer is probably the ‘selfless ness’ character of woman. Mrs. Patil imbibed strength from her husband’s support so she gave her credit to him; this is called “Bharatiya Nari Sanskriti”.

Jhuma village and many such villages have got miles to go before they can finally be an ideal place where woman is again respected for being  a mother, a wife, a teacher, a sister and a daughter.  Jhuma village and Mrs. Patil is definitely ‘A beacon in Dark’ an inspiration to carry forward the message of save womanhood. And as far as I am concerned my search for an ideal village is still on…..

 

words of Ansuman

the team @ Kritika | KIIT


index‘বন্দে মাতরম’ অর্থাৎ মাকে তথা মাতৃভূমিকে বন্দনা করার এ সঞ্জীবনী মন্ত্রকে যাঁরা জীবনের পাথেয় হিসেবে নিয়ে নিজ জীবন উৎসর্গ করে গিয়েছেন তাঁদেরই একজন বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। মাস্টারদা সূর্য সেনের সহযোদ্ধা, ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলনের এ পুরোধা ব্যক্তিত্ব স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের প্রথম নারী শহিদ। কিংবদন্তিতুল্য ব্রিটিশ প্রমোদকেন্দ্র ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণের নেপথ্য সৈনিক এ অগ্নিকন্যা শুধু একটি নাম কিংবা স্মৃতি নয় বরং একটি ঐতিহাসিক স্মারক; স্বাধীনতার গৌরবোজ্জ্বল চেতনায় উদ্ভাসিত প্রতিমূর্তি।

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ধলঘাট গ্রাম। বিপ্লবীদের ঘাঁটি এবং তাদের নানারূপ কীর্তির জন্য স্বনামেই বিখ্যাত। এ গ্রামেই জগদ্বন্দু ওয়াদ্দেদার ও প্রতিভা দেবীর ঘর আলো করে জন্ম নেয় তাদের আদরের “রাণী”।পরবর্তীতে আসকার দীঘির দক্ষিণ-পশিমে শান্ত, ছায়াসুনিবিড় দোতলা মাটির ঘরে পারিবারিক স্থানান্তরের দরুণ সেখানেই বেড়ে ওঠা। ছয় ভাই-বোনের সংসারে প্রীতিলতা ছিলেন তুলনামূলক শান্ত-শিষ্ট প্রকৃতির। প্রগতিশীল ধ্যান-ধারণার অনুসারী পিতা জগদ্বন্দু ওয়াদ্দেদার ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদেরও স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন। প্রীতিলতা ভর্তি হন ডাঃ খাস্তগীর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে।

এরপর মেঘে মেঘে বেলা অনেক গড়ালো। প্রীতিলতাও শৈশব পেরিয়ে কৈশোরে পা দিলেন। ইতোমধ্যেই ভালো ছাত্রী হিসেবে পুরো স্কুলে তার সুনাম ছড়িয়েছে। তাছাড়া অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমেও তার প্রশংসনীয় অংশগ্রহণ ফুটে উঠতে লাগলো। ঠিক এমন সময়েই তার পরিচয় ঘটে ইতিহাসে শিক্ষক ঊষাদির সাথে। ক্যালেন্ডারের ধূসর পাতা নির্দেশ করছে সময়টা তখন ১৯২৩। এ সময় টাইগার পাস মোড়ে সূর্য সেনের বিপ্লবী সংগঠনের সদস্যরা প্রকাশ্য দিবালোকে সরকারী কর্মচারীদের বেতন বাবদ ১৭০০০ টাকা ছিনতাই করে এবং এ অভিযোগে বিপ্লবীদের সাথে রীতিমত যুদ্ধ করে পুলিশ সূর্য সেন ও অম্বীকা চক্রবর্ত্তীকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনা কিশোরী প্রীতিলতার মনে অনেক প্রশ্নের জন্ম দেয়। তাছাড়া ১৯২৪ সালে ব্রিটিশ সরকার প্রণীত ‘বেঙ্গল অর্ডিন্যান্স’ আইনে অনেক বিপ্লবীকে বিনা বিচারে আটক করা শুরু হয়। প্রীতিলতা স্কুলের প্রিয় শিক্ষক ঊষাদির সাথে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করে অনেক কিছুই জানতে পারেন। তাছাড়া ঊষাদির দেয়া ‘ঝাঁসির রাণী’, নিকটাত্মীয় পূর্নেন্দু দস্তিদারের কাছ থেকে পাওয়া ‘দেশের কথা’, ‘বাঘা যতীন’, ‘ক্ষুদিরাম’, ‘কানাইলাল’ প্রভৃতি “নিষিদ্ধ” বই তিনি পড়ে ফেলেন। এসমস্ত বই তার মনে এমনই প্রভাব ফেলে যে তিনি তার পূর্নেন্দুদার কাছে তাদের বিপ্লবী দলে যোগ দেয়ার ইচ্ছার কথা জানান। অথচ তিনি তখনও দশম শ্রেণির ছাত্রী। এভাবেই তার মধ্যে বিপ্লবী চেতনার প্রকাশ পেতে থাকে। তাছাড়া তার সহপাঠী আরেক খ্যাতিমান বিপ্লবী কল্পনা দত্ত তার স্মৃতিচারণায় বলেছেন,“স্কুলে শপথ-পাঠের এক পর্যায়ে বলতে হত I shall be loyal to God and King Emperor. কিন্তু প্রীতিলতা ঘৃণাভরে এ কথা বলা থেকে বিরত থাকতেন এবং বলতে চাইতেন I shall be loyal to God and my country”. এভাবেই প্রীতিলতা এগিয়ে যাচ্ছিলেন ইতিহাস গড়ার দিকে।

ঢাকায় প্রীতিলতা ও দীপালি সংঘ : ১৯২৮ সালে ম্যাট্রিক পরীক্ষার রেজাল্ট বেরুলো। কয়েকটি লেটার মার্ক পেয়ে উত্তীর্ণ প্রীতিলতা পড়তে যান ঢাকার ইডেন কলেজে। সেখানে তিনি যুক্ত হন দীপালি সংঘ নামের একটি সংগঠনের সাথে যেটি প্রকাশ্যে লাঠিখেলা, কুস্তি, ডন-বৈঠক প্রভৃতি শেখাত কিন্তু আসলে তা ছিলো বিপ্লবীদের একটি গোপন সংগঠন। প্রীতিলতা সেখানে লাঠিখেলা, ছোরাখেলা প্রভৃতি বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেন। পরে একটা সময় তিনি তার এক আত্মজীবনীতে বলেন তার এসব কাজের মূল লক্ষ্য ছিলো নিজেকে সূর্য সেনের একজন যোগ্য কমরেড হিসেবে গড়ে তোলা। এদিকে ১৯২৯ সালের দিকে নারী সম্মেলনে যোগ দিতে প্রীতিলতা ও তার সহযোদ্ধা কল্পনা দত্ত ঢাকা থেকে কোলকাতা যান। সেখানে তারা সূর্য সেনের বিপ্লবী দলে যোগ দেয়ার চেষ্টা করেন কিন্তু ব্যর্থ হয়ে তাদের ঢাকা ফিরে আসতে হয়।
এরই মধ্যেই প্রীতিলতা আই.এ. পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আর ঠিক এই কয়েকমাসের মধ্যেই ঘটে যায় চট্টগ্রামের যুব বিদ্রোহ নামে খ্যাত সূর্য সেনের সেই বিখ্যাত বিপ্লবগাঁথা। প্রীতিলতা এ খবর পান তার পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরে আসার পর।

বরাবরই মেধাবী ছাত্রী প্রীতিলতা আই.এ. পরীক্ষায় মেয়েদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং কোলকাতার বেথুন কলেজে বি.এ. পড়তে যান।চট্টগ্রামের যুব বিদ্রোহের পর অনেক বিপ্লবীই আত্মগোপন করেন। ঠিক তেমনি প্রীতিলতার দাদা পূর্নেন্দু দস্তিদারসহ অনেক বিপ্লবী তাদের আরেক সহযোদ্ধা মনোরঞ্জন রায়ের গুণু পিসির বাড়িতে আশ্রয় নেন। প্রকৃত অর্থে তা ছিলো সকল পলাতক বিপ্লবীদের সম্মিলন স্থল। প্রীতিলতা সেখানে তার দাদার সাথে দেখা করতে গিয়ে আরো অনেকের সাথেই পরিচিত হন। সেসব নারী বিপ্লবীরা নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখতেন। পরবর্তীতে মাস্টারদার গোপন নির্দেশে মনোরঞ্জন রায় কোলকাতা থেকে গান পাউডার ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম চট্টগ্রামে সরবরাহ করেন। এটার সমূহ বিপদ নিয়ে মনোরঞ্জন রায় মাস্টারদার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ফলে মাস্টারদা নতুন করে চিন্তা-ভাবনা ক্করা শুরু করেন এবং এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে এ ধরণের কাজে নারীদের ব্যবহার করা হবে কেননা তখনও গোয়েন্দা বিভাগ এসব ব্যাপারে নারীদের সন্দেহ করতো না। আর তখন থেকেই বিপ্লবী কাজে নারীদের ব্যবহার করা শুরু হয় আর তখন থেকেই প্রীতিলতা বিপ্লবী দলে সক্রিয় ভূমিকা রাখার সুযোগ পান। তিনি মাস্টারদার প্রেরিত বিভিন্ন ইশতেহার সাইক্লোস্টাইলে ছাপিয়ে কোলকাতার বিভিন্ন স্থানে বিতরণ করা শুরু করেন। আর তার উল্লেখযোগ্য কাজের আরেকটি ছিল গোপনে কিংবা ছদ্মবেশে জেলখানায় বন্দী বিপ্লবীদের সাথে দেখা করা।

শিক্ষিকা প্রীতিলতা এবং বিপ্লবের প্রথম সোপান : কোলকাতা থেকে বি.এ. পাস করার পর চট্টগ্রামে এসে প্রীতিলতা দেখেন যে তার বাবার চাকরি নেই। তাই সংসারের হাল ধরবার জন্য প্রীতিলতা নন্দনকানন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে( বর্তমানে অপর্ণাচরণ সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়) প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নেন। তখনও তিনি পুষে রেখেছেন মাস্টারদার সাথে তার সাক্ষাতের আজন্ম লালিত স্বপ্ন। একদিন তিনি তার এ স্বপ্নের কথা বলেই ফেললেন আরেক বিপ্লবী কল্পনা দত্তকে। ১৯৩২ সালের মে মাসের গোড়ার দিকে তার এ দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সময়ের অবসান ঘটে। মাস্টারদার সাথে সাক্ষাতে তিনি প্রায় দুই ঘন্টার মত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন ও পরিষ্কার ভাবেই তার Action করার ইচ্ছার কথা জানান এবং তার পর দিনই সাবিত্রী দেবীর বাড়িতে Triggering ও Targeting এর উপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

ধলঘাট সংঘর্ষ : চট্টগ্রামের যুব বিদ্রোহের পর পুলিশের ব্যাপক ধর-পাকড় অভিযানের কারণে বিপ্লবীরা একের পর এক উদ্যোগ গ্রহণ করেও সফল হতে পারছিলেন না। আর তাছাড়া দলের মূল দুই সদস্য সূর্য সেন ও নির্মল সেন তখন দলের সাংগঠনিক কাজে ব্যস্ত। এমনই সময় জুন মাসের ১২ তারিখ সূর্য সেন প্রীতিলতাকে ডাকেন তাদের গোপন আস্তানা সাবিত্রী দেবীর বাড়িতে। উল্লেখ্য এ বাড়ি থেকে মাত্র দশ মিনিটের দূরত্বে ছিলো আর্মি ক্যাম্প। হঠাৎ ১৩ তারিখ মিলিটারিরা তাদের অবস্থানের কথা জানতে পারে এবং ক্যাপ্টেন ক্যামেরনের নেতৃত্বে একটি দল যায় তাদের গ্রেফতার করতে। এ অভিযানে নির্মল সেন সহ বেশ কয়েকজন নেতৃস্থানীয় নেতা নিহত হন কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে প্রীতিলতা বেঁচে যান এবং সূর্য সেন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।কিন্তু পরবর্তীতে বিভিন্ন নথিপত্র উদ্ধারের মাধ্যমে প্রীতিলতার বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের প্রমাণ পাওয়া যায় এবং বেঙ্গল পুলিশের সি আই ডি কর্তৃপক্ষ তাকে ধরার জন্য নোটিশ জারি করে। আর তিনি, মাস্টারদা, তারকেশ্বর দস্তিদারসহ বেশ কয়েকজন বিপ্লবী আত্মগোপন করেন কুন্তলা নামের এক বাড়িতে এবং ছক কাটতে থাকেন ইউরোপীয়ান ক্লাব আক্রমণের।

ইউরোপীয়ান ক্লাব এবং একটি ইতিহাস : “Dog and Indians are prohibited” -খচিত সাইনবোর্ড টাঙ্গানো ইউরোপীয়ান ক্লাবের সামনে। ইন্ডিয়ানদের কুকুরের সাথে তুলনার সূক্ষ্ম ইঙ্গিত তাতে। ব্রিটিশ বেনিয়াদের এ প্রমোদকেন্দ্রটির চারদিক পাহাড় দিয়ে বেষ্টিত। ক্লাবের চারদিকেই সতর্ক প্রহরা। শ্বেতাঙ্গ ছাড়া কেউই সেখানে প্রবেশ করতে পারতো না। এমনই একটি ক্লাবে বিপ্লবীরা যুব বিদ্রোহেই আক্রমণ করতে চেয়েছিলেন কিন্তু গুড ফ্রাইডের কারণে তা আর আলোর মুখ দেখে নি। কিন্তু এবার তারা বদ্ধ পরিকর হামলা চালাবার ব্যাপারে। শৈলেশ্বর চক্রবর্ত্তীর নেতৃত্বে একটি দল ১০ আগস্ট ক্লাব আক্রমণের চেষ্টা চালান কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে তাদের ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসতে হয়। অতঃপর মাস্টারদা এ কাজের দায়িত্ব নারী বিপ্লবীদের দেয়ার চিন্তা-ভাবনা করা শুরু করেন এবং শেষমেশ দায়িত্ব দেন কল্পনা দত্তকে। কিন্তু তিনি পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যাওয়ার কারণে এর ভার পরে প্রীতিলতার উপর। পরিকল্পনা ছিলো পূর্ব দিকে ওয়েবলি রিভলবার ও বোমা নিয়ে প্রীতিলতা,শান্তি চক্রবর্ত্তী,কালিকিঙ্কর দে-দক্ষিণ দিকে রিভলবার নিয়ে সুশীল দে,মহেন্দ্র চৌধুরী-উত্তর দিকে রাইফেল নিয়ে পান্না সেন ও প্রফুল্ল দাস আক্রমণ করবেন। ক্লাবের পাশেই পাঞ্জাবি কোয়ার্টার হওয়াতে প্রীতিলতার পরনে ছিলো মালকোঁচা দেয়া ধুতি ও পাঞ্জাবি আর মাথায় সাদা পাগড়িতে পাঞ্জাবি সাজ। ঠিক ১০ টা ৪৫ মিনিটে আক্রমণের নিশানা ঠিক করার পর হুইসেল বাজালেন দলনেতা প্রীতিলতা। সাথে সাথে ঘন ঘন বোমা আর গুলির আঘাতে কেঁপে উঠতে থাকে পুরো ক্লাব আর পুরো এলাকা পরিণত হয় নরকে। কিন্তু কয়েকজন ইংরেজ অফিসারের কাছে রিভলবার থাকায় তারা পাল্টা আক্রমণ চালালে প্রীতিলতার বাঁ পাশে আঘাত লাগে। কিন্তু তারপরেও তিনি অপারেশনের নিয়ম অনুসারে সবার পিছন পিছন বেরিয়ে আসতে থাকেন। কিন্তু আরেকজন ইংরেজ অফিসার তাকে তাড়া করলে প্রীতিলতা তার এক সহযোগী কালীকিঙ্কর দে-কে তার মুখে পটাসিয়াম সায়ানাইড ঢেলে দিতে বলেন।ইংরেজের হাতে জীবন দেয়ার চেয়ে আত্মহত্যাকেই শ্রেয় মনে করলেন এই মহীয়সী বিপ্লবী।

এবং অতঃপর : প্রীতিলতার মৃত্যুর অনেকটা সময়ই পেরিয়ে গেলো।তার মৃত্যুর পরপরই তার বাবা প্রায় অপ্রকৃতিস্থ হয়ে যান। আর স্বাভাবিকভাবেই তার পরিবারে নেমে আসলো শোকের কালো ছায়া যা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বহন করেছেন তার বাবা-মা।

এ বীরকন্যার স্মৃতিকে অম্লান করে রাখার জন্য প্রশাসনযন্ত্রের মাত্রাতিরিক্ত ঔদাসীন্য চরম লজ্জাজনক। প্রীতিলতা যেন এখন ভগ্ন স্মৃতিসৌধ দিয়ে ঘেরা নাম। প্রশাসন তার দায় সম্পন্ন করেছে গুটিকয়েক স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের মাধ্যমে। এমনকি এ বীরকন্যার ভিটেমাটির ধ্বংসাবশেষও আজ আর নেই।মহান ধলঘাট সংঘর্ষের গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য যে ফলক নির্মাণ করা হয়েছিলো তা রীতিমত ধ্বংসের পথে।

ইউরোপীয়ান ক্লাবের সেই ঐতিহাসিক ঘরটি রেলওয়ের গুদামঘর। মাঝখানে প্রীতিলতা ফান্ডের আওতায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তার আবক্ষ মূর্তি উন্মোচন করা হয়েছে। আর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তার নামে যে কয়টি হল রয়েছে সেসবেও নেই এ মহান বিপ্লবীকে চেনার সুযোগ। সবচেয়ে লজ্জাজনক ব্যাপার এই যে এ অগ্নিকন্যার বীরত্বগাঁথা আজ পর্যন্ত কোন পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভূক্ত হয় নি, যার কারণে প্রজন্মের কাছে তার বিপ্লবগাঁথা যেন এক কল্পকাহিনী। এমনকি বেশ কয়েকমাস আগে তার স্মৃতিবিজড়িত অপর্ণাচরণ সিটি কর্পোরেশন বিদ্যালয়ে বহুতল ভবন নির্মাণের মত ন্যক্কারজনক উদ্যোগও নেয়া হয়েছে।

তবে গত বছর বেশ ঘটা করেই পালন করা হয় তার জন্মশতবার্ষিকী এবং এ বছরও তার আত্মাহুতি দিবস সাড়ম্বরেই পালন করা হয়। এক্ষেত্রে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, সমাজ সমীক্ষা সংঘ প্রভৃতি সংগঠন বেশ প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখা চলেছে। তবে এজন্য সরকারকেও এগিয়ে আসতে হবে। রাষ্ট্রীয়ভাবে তার প্রতি সম্মান জানানোর ব্যবস্থা করতে হবে। তবেই হয়তো আমরা আমাদের এতো দিনের করা পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে পারবো।

এ অগ্নিকন্যার জন্য আমাদের চোখজুড়ে অশ্রু আর বুকভরা স্ফীত অহংকার।

read more from our partners ReflectiveTeens

TUM

Posted: January 16, 2014 by CampusWriting in Elements @ Sir Padampat Singhania University, Udaipur, Writes...
Tags:

Tum Roshani Ho Chanda Ki 
Ya Ho Koi Bahar
Tum Ho Pagalpan
Ya Mera Pahla Pyar…

Tum Ho Sazish Koi
Ya Uthta Koi Sawal
Tum Ho Zindagi Meri
Ya Bund Bund Aur Pyas…

Tum Ho Payal Ki Chamcham
Ya Ho Jhumke Ki Awaz
Tum Ho Ankhon Ka kajal,
Ya Meri Har Ek Saans…

Tum Prem Geet Ho
Ya Shayar Ka Alfaaz
Tum Soch Nahi Ho
Ya Ho Ban Gai Koi Kahani…

Tumse Ab Kese Izhaar Kru
Dil Se Dil Ka Ikraar Karu
Ya Kru Kese Pyar Ki Baat…

Tum Itna Kyu Muskrati Ho
Tum Kyu Khayalo Me Roz Ati Ho
Aur Jhulfo Ko Lahrati Ho
Phir Itna Kyu Tadpati Ho…

Tum Koshishe Iss Dil Ki
Ya Ho Rato Ka Khawab
Tum Ho Rangmanch Ki Kahani
Ya Asal Zindagi Ka Ehsaas…

Tum Ho Dhun Shahanai Ki
Ya Ho Yadon Ki Baraat
Tum Badhata Nasha Ho
Ya Ho Mera Pahla Pyar…
Ya Ho Mera Pahla Pyar…

Prateeti Rawal

Sir Padampat Singhaniya University, Udaipur

prateetirawal@gmail.com

LE JINDGI TU INAAM ME!!

Posted: October 11, 2013 by CampusWriting in Elements @ Sir Padampat Singhania University, Udaipur
Tags:

Hochuki hai puri meri baat ek alfaz me,

me kho chuki lafz mere teri kisi aavaz me,

tu hai gazll me shayr teri ,kbi aa mere khayl me,

ye jaam tera ,sham teri,ye mahfil tere intzaar me,

batmizzi ko meri tune toda galt liya h yar,

mera dil tera,ye jaan teri,

,le jindgi tu inaam me…

Gayatri Choudhary

SPSU, Udaipur

gayatri10294@gmail.com


It was a sunny day, my car was crawling on the heavily jammed road of New Delhi and suddenly it stopped with a jerk. I came out of my thoughts and stepped out to find out what had happened.
Oh! It was an accident, quite normal in metro cities of our India. While I was watching the whole scene many children came and started asking for alms. Heavily jammed roads are their favorite place for the begging industry. I think, I spoke rudely and told them to move away, some of them went, but one was still there.

He stood near me and didn’t say anything, the dirty face of his hand visible as he begged for money. He was continuously staring at me, his eyes piercing my shield, I was completely shaken up.

His eyes said so much to me. In the midst of the entire rich crowd, kicking him, abusing him, he was standing firm and there was so much inside him he wanted to reveal.

AT THAT TIME I REALISED, WHAT IS ‘REAL INDIA’?

It said, real India lives in villages but at that moment I found that real India is seen in eyes of every individual who is striving for something. Real India is fighting to survive. I was sweating abruptly. Hurriedly I went into the car and closed the windows, as if I was trying to blind myself from what I had witnessed now or to my realizations. Thoughts were popping into my head continuously. I portrayed that child in my mind; his face refused to get out of my head. His eyes so curious, his face so sad and desperate, his clothes, torn and hands, dirty. But still he has that attitude, that persona. He was completely portraying the real India. That child was a result of poverty, no care. He was a victim of child labor and no education facility was being provided to him.

Our India is facing this situation which is a problem at a global level. India is dominated by superpowers like U.S.A, U.K., France and many more. Our economy is at its verge, unemployment is at its limits. Despite being the second largest populated country of the world, we are among the weakest and poorest. No doubt we have talent, we have high ambitions, desires and at the same time we are hard working and determined, but the lack of facilities and because of lack of good leaders we are still, after 60 years of independence, a developing country.

It is not only that India is dominated by external forces only, but internally our system is so corrupt that we getting hollowed from inside. Delhi gang rape incident or 2G, 3G scams are some of prominent examples of it. We are busy in fighting ourselves, then how can we face others.

That child on his forehead bore our tricolor. I felt that, that tricolor was ashamed that it could not fill colors in the life of that child. His determination reflected the determination of the youth of India, of future India. But being surrounded by so cruel forces, his hands were begging, not for money, but for freedom, I realized.

Freedom is a thing to apply, to rejoice, to revive and to reform. Yes, he wants to reform our India. So many measures have been taken to make India, a better place.

Anna Hazare’s anti-corruption rally is one that deserves a mention. But now what? No change. Still we stand on the same street.

India is begging to be uplifted, to be developed, but after 60 years also, there are more slaves than fighters in this cut-throat world.

India is getting wounded. We need to develop in all ways, by all means. We need to come together, and work to make our India, that India which will reflect in the eyes of every child, youth or old dreams. That India which I saw in that child’s eyes needs to be transformed, so that we can be on the giving side. The process will be slow, but I am sure we will make one day that INDIA of many DREAMS. Just what is needed is co-operation of every Indian and then we will be nowhere behind in any field.

 That day I too took a vow that I will do whatever I can to fulfill the many dreams I saw in the eyes of that child. I see that time is not far when these hands will not be begging for help but will be involved in  giving happiness around the world.

THE END”

logoPrabhasini Mathur

prabhasinipvmathur@gmail.com

https://www.facebook.com/prabhasini.mathur

Creative Writing event @ Panache 2013 by CampusWriting…

(Third Place Winning Article)


It was during my semester exams when I got the news that Mahaveer publishers are conducting a short-story competition. Love was the genre, a genre on which I had never written any story before. But it so happens that when you read a theme, the story it forms by itself in your tiny grey cells. It did for me when I learned that the participants had to write a love story. But who had the time to pen down the story when every alternate day you have those giant exams that gobble you up in your sleep. Days went by and I forgot the story I had in my mind. My exams, they got over too. Only a few days were left for the submission period of the competition to be over when I realized I had to submit something, not because I simply wanted to, but because I had decided to and I actually had a story in my mind. 10th January 2013 was the last date of submission and I submitted my entry just before sunset crossing my fingers and hoping for the best.

5 long days of waiting; and that’s when I thought I may not be selected as entries were pouring in like anything, almost 1000, from published authors and famous bloggers. On 15th Jan’13 a tear trickled down my cheek as I realized I might have been hoping for something which will give me nothing but failure and a disappointment. I shoved away all thoughts of the contest and carried on with my own life- a juggle of playing my guitar, reading a novel, studying for the impending exams, facebooking, going out with friends, et cetera.

It was at around 9:00 pm when the unexpected happened and with it brought new hopes and instilled new confidence in me. I won the competition; Yes, I did. And it’s now all “Uff Ye Emotions” in my mind. Yes, the anthology Mahaveer Publishers is publishing with the winning entries is christened “Uff Ye Emotions”. The editor of the anthology is none other than Vinit K. Bansal, the author of the novel “I am Heartless”, who was also one of the many judges of the competition. He also has contributed a story for our anthology. The other winners of the competition, my fellow authors are Priyanka Dey, Suresh Chandrasekaran, Pankaj Mittal (Author of “Thank God I’m Single Again”), Rachna Seth (Author of Love The Ecstasy), Saurabh Arya, Abhilash Ruhela, Stephen Anthony, Anjit Sharma aka Crestless Wave, Papan Basu, Himanshu Chhabra aka Appie and Drishti Dasgupta.
 The cover page of the upcoming anthology is flawlessly designed by Ink Studios’ Sunill Kaushik.
The book is releasing on 10th of February 2012. And since it is a collection of the best love stories it will undoubtedly be the perfect Valentine’s Day gift for your special someone. If I were not one of the authors, I would have asked for it as a V-day gift too (Now I might have to gift it instead. :-P).
 Looking back at 15th January 2013 now, I think UYE (Uff Ye Emotions) is one of the best things that happened to me. All thanks to the judges who chose my work and my friends who believed in me.
 And now that my friends and readers are pre-ordering for my book it gives me Goosebumps and yes, a wee bit of nervous I am.  I hope my readers and friends like my story “Happily Ever After” in the anthology. And just because I named it “Happily Ever After” doesn’t mean it’s a happy ending, right? Well, I am not that fond of sad endings either. Read it and find it out for yourself, and when you do, don’t forget to drop me a text or a comment about what you think about it.

Hey buddy “What’s up……..Enjoy dude. Have fun.”Often we came across these words in our student life both in schools, colleges and our locality. Even you can see those words appearing in the beginning and end of a conversation in the digital world viz. facebook,sms etc. What is this enjoyment for us now? Is there is some part of enjoyment and fun alike for all the boys and girls of our age?  Whatever it is; I am trying to give my views regarding this.

Some people live for enjoyment. They would like to eat, drink and be merry without caring for tomorrow. For them, life is not a serious journey through ordeals. It is a light comedy. They might mean “kal kisne dekha hain”. In actual life however, there are a few who enjoy so easily, for life is not a bed of roses. It has many thorns around.

The Hindu religion, which believes in “karma” and “rebirth”, proclaims that it is rare to be born as a human being and rarer still to be free of deformities and illness. It is due to good or noble deeds performed in earlier births and owing to grace of GOD, that an individual is born as a human being with good health. Having attained this wonderful gift of being born as a normal human being what should one do with his life? The preposition-“The principal business of life is to enjoy it” appears to be sound and nice. But difficulties arise when one attempts to define the word “enjoyment”. It is related to one’s environment, to the habits and ideas formed in childhood, experience and knowledge. It is a highly relative concept. What is found enjoyable today or in the past might prove to be uninteresting, distasteful or even painful at a later date. Enjoyment is conditioned by time, place and circumstances. One can enjoy certain things at certain places on certain occasions and in certain conditions only. But when the time, place, circumstances or conditions etc. changes, they may produce quite opposite effects.

Another important aspect of enjoyment is that it happens to be highly subjective. One man’s food is another man’s poison. What one individual may regard as most enjoyable, the other individual may find it as extremely boring or tiring. Take the game of bridge or rummy. To those who are fond of it, it may be most absorbing and interesting to sit for hours and continue playing the game. But many find it very dull and uninteresting way of occupying oneself and quote “kaam nai aru…” Thus enjoyment is related to one’s personal preferences and interests. We have seen many people sitting in music halls glued to their chairs for three hours at a stretch listening to musical performance. To those who love this music and understand it are interested in it. This is an enjoyable experience; but there are millions who may regard music, particularly the classical varieties as mere violent exercise of vocal chords. An individual, who enjoys European music for hours together, might be unable to stand the Hindustani music even for a short time. Comment might be like: “Boring….” What the hell is he singing….? “Music  suzic nai…..” etc. Thus the concept of enjoyment remains highly selective and subjective.

Again, when an individual lays emphasis on his enjoyment, he may be causing misery and unhappiness to others. In his efforts to acquire wealth and power as the means to his enjoyment, an individual might be hitting hard several innocent people. He might be enslaving and exploiting the poorer and weaker sections of the population. If each one is to regard that the principal business of life is to enjoy, it is most likely that they may attain this object only at the cost of sufferings of others. This will lead to the prevalence of law of the jungle where “might is right”.

There are quite a few who subscribe to the view that one can enjoy by doing what comes to him or her naturally. This is again a sweeping statement. As long as the natural instinct does not come into conflict with the well being of others, it may be permissible. “Har chiz ka kimat hota hain”i.e. “Everything has its price”. One should pay the price and have it. If one wants to enjoy the fruits of wealth and power, he should work hard and earn them. The exercise of power must be in the interest and benefit of the community and the country. If it is exercised in one’s own self interest, it is not likely to last long. Soon there will be revolt and his authority and power will end. This is what precisely happened to the previous regime in India. If one wants to reach the summit of the mountain, one has to start from the base and climb up. If one wants victory, he must fight and conquer the enemy. If a student were to concentrate on enjoyments only and spend most of his time in playfields, cinema halls, restaurants and neglect his duties then his enjoyment might be prove deceptive. Now a days in our society we see people mostly teenagers addicted to smoking, drinking or drug addiction. They consider it as a mode of enjoyment. Smoking is considered cool and a mode of attraction. But they harm one’s health and shorten individual’s span of life (needless to say see the back side of a cigarette or gutkha packet or at the beginning of a movie before the names of hero – heroine appears). And these practices might cause mental hurt to his wife, parents and well wishers and bring dissatisfaction to everyone.

The approach, that the principal object of life should only be enjoyment lays emphasis on material comforts and values at the expense of one’s family, social and other responsibilities. It ignores the importance of psychological or spiritual values. The principal object of life should, therefore, be to make the best use of life that has been given to one by God. Only by living a meaningful life, does one enjoy it to the maximum extent in doing his duties and discharging his responsibilities in an efficient manner. When people are motivated by lofty ideas like patriotism, sacrifice for the sake of one’s honour or welfare of his countryman, we find them facing thrill, pleasure and enjoyment. Enjoyment comes when one develops interest in what he must do. He should seek enjoyment in such a way that he does not cause pain or hurt, physical or mental to others.

As Mahatma Gandhi quoted, “I eat to live, to serve, and also, if it so happens, to enjoy, but I do not eat for the sake of enjoyment”

Madhurjya Pratim Kashyap

Department of Mechanical Engineering

6th Semester

in collaboration with The AECIAN; Assam Engineering College

THE INWARD CORRUPTION

Posted: January 27, 2013 by aecsws in The AECIAN @ Assam Engineering College, Writes...
Tags:

‘Corruption is the cause of all evil in our country’ is the answer most learned and socially conscious citizens of India would give if asked about the cause of various socio-economic problems galvanising the country. While we are all fashionably outraged at the way politicians misuse public money with impunity, a small look at the way we lead our daily lives is enough to show that what happens in the order of millions of rupees is just a bigger manifestation of a phenomenon that is integral to our everyday life. We readily pay money to cut corners; we regularly try to cheat the system and feel proud of it. Worse still, we rationalize most of it by telling ourselves that this is all because the system is corrupt—as if multi-million dollar scams in Delhi force us to ask our kids to lie to the ticket-collector about their age.

The problem is that, in India, it’s incredibly unfair to expect otherwise. Most of the public transport in Germany (and many other countries) works on a self-help basis. You buy tickets and punch them yourselves; if you are carrying pets or bicycles, you buy tickets for them as applicable. There are no ticket-collectors in most trains, nor are there any turnstiles or other setup for verification of tickets. It’s tempting to skip buying tickets when simple probability tells you that the expected value of cheating the system is in your favour. Why buy tickets then? To feel that you are doing the right thing? The problem is that doing the right thing can make you feel incredibly stupid. What matters is not whether there are enough ticket-collectors, but whether there are enough commuters around you who buy tickets.

Before punishing wrong, it’s important to foster a culture where people recognize the wrong.  We live in a system where not letting others copy your assignment brands you as anti-social and unfriendly. The key then to ensuring less or no corruption is that people who want to do the right thing are not made to feel incredibly stupid for doing so. This is where the critical mass comes in. Once enough people opt for the right means, the rest would not be able to rationalise their misdeeds by referring it as collective corruption.

Every once in a while, we hear news reports of a public officer’s life being ruined because he was caught taking a paltry sum as bribe. It is fun to make sport of such people and to make them face public ignominy. It works beautifully—the ‘higher ups’ can give themselves a pat on the back for ‘exposing corruption’ and punishing it. The holier-than-thou common man who has been taught to feel victimized by corruption smells some kind of sweet revenge. We now have a suspended police officer, and a nation that feels slightly better. Perfect. When we foster a culture of corruption and then arbitrarily punish a few offenders, we are not being wrong in punishing corrupt people, we are being irresponsible. It does work as a one-click solution; the work has to be intricately exhaustive and inclusive of everyone.

 Abhinav Bhattacharyya

8th Sem (Civil Engineering)

in collaboration with The AECIAN; Assam Engineering College