Archive for the ‘Writes…’ Category


এই লেখাটির উদ্দেশ্য হলো পলাশীর সেই বিশ্বাসঘাতকদের শেষ পরিণতি যা হয়েছিল তার স্বরুপ পাঠকদের স্বম্মুখে উন্মোচন।ইতিহাসের ছাত্র নই, ইচ্ছা ছিলো সাহিত্য অথবা সাংবাদিকতা নিয়ে পড়ার কিন্ত বাস্তবতার পিছুটান আর পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে শেষ পর্যন্ত হয়ে গেলাম ব্যবসায় প্রশাসনের ছাত্র।তাই ইতিহাসনির্ভর একটি নিবন্ধ যেমন তথ্যপ্রাচুর্যতা ও শতভাগ শুদ্ধতার দাবী রাখে, সেই দাবী মেটাতে এই নিবন্ধ হয়তো কিঞ্চিৎ ব্যর্থ। তাই শুরুতেই এই নিবন্ধটির অজানা ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য পাঠকদের নিকট ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

লেখাটির প্রধান উদ্দেশ্য হলো সেই খলনায়কদের শেষ জীবনের প্রতি দৃষ্টিপাত করা যাদের কারণে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিলো। আসুন দেখে নেয়া যাক, সেই খলনায়ক ও বিশ্বাসঘাতকদের শেষ পরিণতি কি হয়েছিলোঃ

লর্ড-ক্লাইভ
বাংলায় ব্রিটিশ ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর দোর্দন্ড প্রতাপশালী প্রধান ছিলেন লর্ড ক্লাইভ।পলাশীর যুদ্ধে ও যুদ্ধপরবর্তী তার নিষ্ঠুরতা বর্ণণার’ও অযোগ্য।যুদ্ধপরবর্তী সময়ে হত্যা,ধর্ষণ,সম্পদ-লুটতরাজসহ বিবিধ অপকর্মে লিপ্ত হয় এই সাদা চামড়া ও তার হায়েনাবাহিনী।নবাব পরিবারের সাথে তার নিষ্ঠুর আচরণে আজো কেপে উঠে যে কেনো বিবেকবান মানুষের হৃদয়। লর্ড-ক্লাইভের নিষ্ঠুরতার বর্ণনা দিতে গিয়ে বিদ্রোহী কবি নজরুল লিখেছিলেন

“বাঙ্গালীর খুনে লাল হলো হেথা ক্লাইভের খঞ্জর,

       ঐ গঙ্গায় ডুবিয়াছে ভাই ভারতের দিবাকর”

কিন্তূ ভাগ্যর কি নির্মম পরিহাস, এই দোর্দন্ড প্রতাপশালীর শেষ জীবন কাটে নিদারুন অর্থকষ্টে।যুদ্ধপরবর্তী সময়ে হত্যা,ধর্ষণ,সম্পদ-লুটতরাজ,রাষ্ট্রীয় তহবিল তছরুপ,অস্বচ্ছ হিসাব প্রদানসহ বহু অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠে স্বয়ং ব্রিটিশ মিডিয়া। ব্রিটিশ হাউস-অব-কমন্স’এর সদস্যরাও তার অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে উঠেন।অব্যাহত প্রতিবাদের মুখে তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে হউস-অব-লর্ডস।দীর্ঘদিন এই তদন্ত কমিটির শুনানীতে তাকে অংশ নিতে হয় এবং আনীত অভিযোগ মোকাবেলায় আইনী খরচ মেটাতে বাংলা হতে লুটকৃত সমস্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়। এক পর্যায়ে ব্রিটিশ সরকার তার সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে। ফলে, শেষ জীবনে সর্বস্ব খুইয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন ক্লাইভ এবং তার পরিবারের সদস্যরাও তাকে ত্যাগ করে চলে যায়।হতদরিদ্র অবস্থায় চরম হতাশাবোধ থেকে শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন ক্লাইভ। হায়,পলাশীর সেই বিজয়ী বীর(!) কিনা শেষ পর্যন্ত কাপুরুষের মতো পৃথিবী ত্যাগ করতে বাধ্য হন। এই ছিলো লর্ড ক্লাইভের শেষ পরিণতি।

মীরজাফর
বর্তমানে বাংলা ভাষায় বিশ্বাসঘাতকতার প্রতিশব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয় মীরজাফর নামটি। পুরো নাম মীর জাফর আলী খান। এই বিস্বাসঘাতক স্বপ্ন দেখতো একদিন সে বাংলার নবাব হবে।এই ইচ্ছা পূরণ করতে গিয়ে ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর সাথে ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় মীর জাফর।দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এই বিস্বাসঘাতক বাংলার নবাব হতে পারলেও তার এই সুখ বেশীদিন স্থায়ী হয়নি। অল্প কিছুদিনের মাঝেই তার ব্রিটিশ প্রভুরা তাকে আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করে,তাকে নবাব পদ থেকে সড়িয়ে দেওয়া হয়। শেষ জীবনে তাকেও অর্থকষ্টে দিনাতিপাত করতে হয়। এক পর্যায়ে কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ রোগভোগের পর মারা যায় বেইমান মীর জাফর আলী খান। কথিত আছে,কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তার গায়ের চামড়া পচে খসে পড়ে যায়। এই ছিলো বেইমান মীরজাফরের শেষ পরিণতি।

মীর কাসিম

পলাশীর আরেক খলনায়ক মীর কাসিম। ব্রিটিশদের তাবেদারী করে বাংলার নবাব হতে পারলেও এক পর্যায়ে তাকেও আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করে ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানী। ফলে,মীর কাসিমের সাথে ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর যুদ্ধ হয় যা ইতিহাসে “বক্সারের যুদ্ধ” নামে পরিচিত। বক্সারের যুদ্ধে পরাজিত হয়ে দিল্লী পালিয়ে যান মীর কাসিম।দিল্লীরপথে-প্রান্তরে শতচ্ছিন্ন বস্ত্রে অবস্থানকালীন সময়ে এক পর্যায়ে দিল্লী জামে মসজিদের নিকট মৃত্যুবরণ করেন মীর কাসিম।শেষ জীবনে ভিখারী দশায় মীর কাসিমকে মৃত্যুবরণ করতে হয়।

ঘষেটি বেগম

সম্পর্কে ঘষেটি বেগম ছিলেন নবাব সিরাজউদ্দৌলার আপন খালা।ঘষেটি বেগম স্বপ্ন দেখতেন তিনি হবেন বাংলার প্রথম মহিলা নবাব।এই ইচ্ছা বাস্তবায়নের জন্য তিনিও হাত মেলান ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর সাথে।প্রাসাদের সকল গোপনীয় তথ্য ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর কাছে পাচার করতো এই উচ্চভিলাষী বিস্বাসঘাতক রমণী। পলাশীর যুদ্ধের পর মীরজাফরপুত্র মীরন উপলব্ধি করতে পারে তার পিতার নবাব হবার পথে সবচেয়ে বড় বাধা ঘষেটি বেগম।তাই মীরন চক্রান্ত করে ঢাকার অদুরবর্তী ধলেশ্বরী নদীতে নৌকা ডুবিয়ে ঘষেটি বেগমকে হত্যা করে।এভাবেই এক ষড়যন্ত্রকারীর হাতে আরেক ষড়যন্ত্রকারীর হয় সলিল সমাধি।

মীরন
পলাশীর যুদ্ধের আরেক ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রকারী হলো মীরন। তার নির্দেশেই মোহাম্মাদী বেগ নির্মমভাবে নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে হত্যা করে। মীরনের মৃত্যু হয় বজ্রপাতে।

জগত শেঠ
পলাশীর যুদ্ধের অন্যতম ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রকারী হলো জগত শেঠ। কাশিমবাজার ষড়যন্ত্রের প্রধানতম নায়ক এই জগত শেঠ। তার পরিণতি ছিলো আরো ভয়ংকর। মীর কাসিমের নির্দেশে বিহারের “মুঙ্গের দুর্গ” থেকে বস্তাবন্দী করে তাকে নদীতে ফেলে হত্যা করা হয়।এক্ষেত্রেও পরিলক্ষিত হয় যে, এক ষড়যন্ত্রকারীর হাতে আরেক ষড়যন্ত্রকারীর হয় সলিল সমাধি।

উমিচাঁদ
কাশিমবাজার ষড়যন্ত্রের আরেক নায়ক উমিচাঁদ। দেশের সাথে বিস্বাসঘাতকতা করে ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর সাথে যোগ দিলেও মজার ব্যাপার হলো বিস্বাসভঙ্গের অপরাধে তাকেই সাজা দেয় ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানী।অর্থাৎ যার জন্য সে করলো চুরি,তারাই তাকে বললো চোর। উমিচাঁদের সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়।কপর্দকহীন নিঃস্ব অবস্থায় তাকে মৃত্যুবরণ করতে হয়।

নন্দকুমার
নন্দকুমারকেও উমিচাঁদের পরিণতি বরণ করতে হয়।তহবিল তছরুপের অভিযোগে তাকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলানো হয়।

এই ছিলো পলাশীর খলনায়ক ও বিস্বাসঘাতকদের শেষ পরণতি। প্রত্যেককেই নির্মমভাবে মৃত্যুবরণ করতে হয়। সবচেয়ে চিত্তাকর্ষক যে ব্যাপারটি সেটি হলো, এক বিস্বাসঘাতকের হাতে হয় আরেক বিস্বাসঘাতকের মৃত্যু। কথায় আছে, “History Repeats Itself’’.তারা যে বিস্বাসঘাতকতা দেশের সাথে করে,সেই একই বিস্বাসঘাতকতার পুনরাবৃত্তি তাদের জীবনেও ঘটে।আর এভাবেই বিস্বাসঘাতকরা ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়।

এই লেখাটির উদ্দেশ্য হলো পলাশীর সেই বিশ্বাসঘাতকদের শেষ পরিণতি যা হয়েছিল তার স্বরুপ পাঠকদের স্বম্মুখে উন্মোচন।ইতিহাসের ছাত্র নই, ইচ্ছা ছিলো সাহিত্য অথবা সাংবাদিকতা নিয়ে পড়ার কিন্ত বাস্তবতার পিছুটান আর পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে শেষ পর্যন্ত হয়ে গেলাম ব্যবসায় প্রশাসনের ছাত্র।তাই ইতিহাসনির্ভর একটি নিবন্ধ যেমন তথ্যপ্রাচুর্যতা ও শতভাগ শুদ্ধতার দাবী রাখে, সেই দাবী মেটাতে এই নিবন্ধ হয়তো কিঞ্চিৎ ব্যর্থ। তাই শুরুতেই এই নিবন্ধটির অজানা ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য পাঠকদের নিকট ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
লেখাটির প্রধান উদ্দেশ্য হলো সেই খলনায়কদের শেষ জীবনের প্রতি দৃষ্টিপাত করা যাদের কারণে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিলো। আসুন দেখে নেয়া যাক, সেই খলনায়ক ও বিশ্বাসঘাতকদের শেষ পরিণতি কি হয়েছিলোঃ
লর্ড-ক্লাইভ
বাংলায় ব্রিটিশ ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর দোর্দন্ড প্রতাপশালী প্রধান ছিলেন লর্ড ক্লাইভ।পলাশীর যুদ্ধে ও যুদ্ধপরবর্তী তার নিষ্ঠুরতা বর্ণণার’ও অযোগ্য।যুদ্ধপরবর্তী সময়ে হত্যা,ধর্ষণ,সম্পদ-লুটতরাজসহ বিবিধ অপকর্মে লিপ্ত হয় এই সাদা চামড়া ও তার হায়েনাবাহিনী।নবাব পরিবারের সাথে তার নিষ্ঠুর আচরণে আজো কেপে উঠে যে কেনো বিবেকবান মানুষের হৃদয়। লর্ড-ক্লাইভের নিষ্ঠুরতার বর্ণনা দিতে গিয়ে বিদ্রোহী কবি নজরুল লিখেছিলেন
“বাঙ্গালীর খুনে লাল হলো হেথা ক্লাইভের খঞ্জর,
ঐ গঙ্গায় ডুবিয়াছে ভাই ভারতের দিবাকর”
কিন্তূ ভাগ্যর কি নির্মম পরিহাস, এই দোর্দন্ড প্রতাপশালীর শেষ জীবন কাটে নিদারুন অর্থকষ্টে।যুদ্ধপরবর্তী সময়ে হত্যা,ধর্ষণ,সম্পদ-লুটতরাজ,রাষ্ট্রীয় তহবিল তছরুপ,অস্বচ্ছ হিসাব প্রদানসহ বহু অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠে স্বয়ং ব্রিটিশ মিডিয়া। ব্রিটিশ হাউস-অব-কমন্স’এর সদস্যরাও তার অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে উঠেন।অব্যাহত প্রতিবাদের মুখে তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে হউস-অব-লর্ডস।দীর্ঘদিন এই তদন্ত কমিটির শুনানীতে তাকে অংশ নিতে হয় এবং আনীত অভিযোগ মোকাবেলায় আইনী খরচ মেটাতে বাংলা হতে লুটকৃত সমস্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়। এক পর্যায়ে ব্রিটিশ সরকার তার সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে। ফলে, শেষ জীবনে সর্বস্ব খুইয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন ক্লাইভ এবং তার পরিবারের সদস্যরাও তাকে ত্যাগ করে চলে যায়।হতদরিদ্র অবস্থায় চরম হতাশাবোধ থেকে শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন ক্লাইভ। হায়,পলাশীর সেই বিজয়ী বীর(!) কিনা শেষ পর্যন্ত কাপুরুষের মতো পৃথিবী ত্যাগ করতে বাধ্য হন। এই ছিলো লর্ড ক্লাইভের শেষ পরিণতি।
মীরজাফর
বর্তমানে বাংলা ভাষায় বিশ্বাসঘাতকতার প্রতিশব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয় মীরজাফর নামটি। পুরো নাম মীর জাফর আলী খান। এই বিস্বাসঘাতক স্বপ্ন দেখতো একদিন সে বাংলার নবাব হবে।এই ইচ্ছা পূরণ করতে গিয়ে ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর সাথে ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় মীর জাফর।দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এই বিস্বাসঘাতক বাংলার নবাব হতে পারলেও তার এই সুখ বেশীদিন স্থায়ী হয়নি। অল্প কিছুদিনের মাঝেই তার ব্রিটিশ প্রভুরা তাকে আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করে,তাকে নবাব পদ থেকে সড়িয়ে দেওয়া হয়। শেষ জীবনে তাকেও অর্থকষ্টে দিনাতিপাত করতে হয়। এক পর্যায়ে কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ রোগভোগের পর মারা যায় বেইমান মীর জাফর আলী খান। কথিত আছে,কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তার গায়ের চামড়া পচে খসে পড়ে যায়। এই ছিলো বেইমান মীরজাফরের শেষ পরিণতি।
মীর কাসিম
পলাশীর আরেক খলনায়ক মীর কাসিম। ব্রিটিশদের তাবেদারী করে বাংলার নবাব হতে পারলেও এক পর্যায়ে তাকেও আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করে ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানী। ফলে,মীর কাসিমের সাথে ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর যুদ্ধ হয় যা ইতিহাসে “বক্সারের যুদ্ধ” নামে পরিচিত। বক্সারের যুদ্ধে পরাজিত হয়ে দিল্লী পালিয়ে যান মীর কাসিম।দিল্লীরপথে-প্রান্তরে শতচ্ছিন্ন বস্ত্রে অবস্থানকালীন সময়ে এক পর্যায়ে দিল্লী জামে মসজিদের নিকট মৃত্যুবরণ করেন মীর কাসিম।শেষ জীবনে ভিখারী দশায় মীর কাসিমকে মৃত্যুবরণ করতে হয়।
ঘষেটি বেগম
সম্পর্কে ঘষেটি বেগম ছিলেন নবাব সিরাজউদ্দৌলার আপন খালা।ঘষেটি বেগম স্বপ্ন দেখতেন তিনি হবেন বাংলার প্রথম মহিলা নবাব।এই ইচ্ছা বাস্তবায়নের জন্য তিনিও হাত মেলান ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর সাথে।প্রাসাদের সকল গোপনীয় তথ্য ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর কাছে পাচার করতো এই উচ্চভিলাষী বিস্বাসঘাতক রমণী। পলাশীর যুদ্ধের পর মীরজাফরপুত্র মীরন উপলব্ধি করতে পারে তার পিতার নবাব হবার পথে সবচেয়ে বড় বাধা ঘষেটি বেগম।তাই মীরন চক্রান্ত করে ঢাকার অদুরবর্তী ধলেশ্বরী নদীতে নৌকা ডুবিয়ে ঘষেটি বেগমকে হত্যা করে।এভাবেই এক ষড়যন্ত্রকারীর হাতে আরেক ষড়যন্ত্রকারীর হয় সলিল সমাধি।
মীরন
পলাশীর যুদ্ধের আরেক ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রকারী হলো মীরন। তার নির্দেশেই মোহাম্মাদী বেগ নির্মমভাবে নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে হত্যা করে। মীরনের মৃত্যু হয় বজ্রপাতে।

জগত শেঠ
পলাশীর যুদ্ধের অন্যতম ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রকারী হলো জগত শেঠ। কাশিমবাজার ষড়যন্ত্রের প্রধানতম নায়ক এই জগত শেঠ। তার পরিণতি ছিলো আরো ভয়ংকর। মীর কাসিমের নির্দেশে বিহারের “মুঙ্গের দুর্গ” থেকে বস্তাবন্দী করে তাকে নদীতে ফেলে হত্যা করা হয়।এক্ষেত্রেও পরিলক্ষিত হয় যে, এক ষড়যন্ত্রকারীর হাতে আরেক ষড়যন্ত্রকারীর হয় সলিল সমাধি।

উমিচাঁদ
কাশিমবাজার ষড়যন্ত্রের আরেক নায়ক উমিচাঁদ। দেশের সাথে বিস্বাসঘাতকতা করে ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর সাথে যোগ দিলেও মজার ব্যাপার হলো বিস্বাসভঙ্গের অপরাধে তাকেই সাজা দেয় ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানী।অর্থাৎ যার জন্য সে করলো চুরি,তারাই তাকে বললো চোর। উমিচাঁদের সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়।কপর্দকহীন নিঃস্ব অবস্থায় তাকে মৃত্যুবরণ করতে হয়।

নন্দকুমার
নন্দকুমারকেও উমিচাঁদের পরিণতি বরণ করতে হয়।তহবিল তছরুপের অভিযোগে তাকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলানো হয়।
এই ছিলো পলাশীর খলনায়ক ও বিস্বাসঘাতকদের শেষ পরণতি। প্রত্যেককেই নির্মমভাবে মৃত্যুবরণ করতে হয়। সবচেয়ে চিত্তাকর্ষক যে ব্যাপারটি সেটি হলো, এক বিস্বাসঘাতকের হাতে হয় আরেক বিস্বাসঘাতকের মৃত্যু। কথায় আছে, “History Repeats Itself’’.তারা যে বিস্বাসঘাতকতা দেশের সাথে করে,সেই একই বিস্বাসঘাতকতার পুনরাবৃত্তি তাদের জীবনেও ঘটে।আর এভাবেই বিস্বাসঘাতকরা ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়।

 

read more from our partners ReflectiveTeens

Advertisements

The Beacon in the Dark

Posted: November 13, 2014 by Ansu in Kritika @ KIIT, Writes...
Tags: , ,

The ancient Indian scriptures have described ‘Prakruti’ or ‘Nature’ as a woman who gives birth and nourishes all the living organisms on this Earth. Man without woman is incomplete but it’s sad that even today she is considered to be man’s subordinate or slave. With passage of time human beings have developed but their humanity has under-developed. Earlier when man was not so developed our scriptures say women was a respected mother, wife, sister and daughter. But today it’s a matter of shame that woman is only looked as a mean to satisfy man’s vulturous desires, she is expected to oblige the atrocities done to her and she is called just a ‘Child bearing machine. Today when we talk of woman empowerment, gender bias,50% reservation, woman education and protection they sound more like an electoral promise rather than a since effort to change the society. Had there been sincere effort then everyday news like ‘A women in NCR is Gang raped’ or ‘The police excavated 4 female fetus from the hospital bin’ or ‘ A bride burnt alive by in-laws’ won’t appear. But among this dark cloud of inhumanity there must be a silver-lining somewhere, in some part of this world. My hope to find such a place is not dream  in whose search I am still roaming…….

…Roaming roaming I once reached Jhuma village, a typical Maharastrian village few meters away from the famous Shani Shingnapur temple. From outside  it looks like any other village of India but what made it authentic Maharastrian was the dress-code of the villagers. The men were in all white dhoti and white shirt with a ‘Gandhi-topi’ on their head and women were wearing sarees in the same way as men wear dhoti and have their nose pierced with a nose ring. They were wearing flower garlands (‘Gajara’).I had heard a lot about how Maharastrians respect women and especially this village was considered as an ideal village where women is treated as a women and not as someone who ‘owe-men’. My host for that night was Mr. Ramdhin Patil the village headman. Mr. Patil was a very learned man and so was his wife Mrs. Patil. God has been too harsh to this ever-helping couple as even after 35yrs of marriage they don’t have any child of their own.Mrs. Patil was a very cheerful lady and was always eager to help young children like myself without any selfish motive. That night Mr. Patil told me the history of Jhuma Village and actual reason behind Mrs.Patil’s this selfless service.

Mr. Dhinanath Patil, Mr. Patil’s father was the village headman then when Mrs. Patil got pregnant. Mr. Patil (senior) ordered his wife (Mr. Patil’s mother) to get the child’s sex determined. Sex determination though illegal was a rampart practice in those days. Unfortunately the family came to know that Mrs. Patil is carrying a girl child. Being the head of the family as well as of the village this child was not acceptable to senior Patil so he ordered the child be dropped immediately. Mrs. & Mr. Patil both were against this decision, their life was made a hell and with pressure mounting from outside too the matter was going out of control. The poor child finally succumbed to an internal conspiracy. Mrs. Patil was poisoned and the poor ‘Barbie’ died inside her mother’s womb. Since then the couple didn’t have any child. “Mr. Ramdhin after becoming the village headman worked against all odds to make Jhuma village an ideal village of the state where woman is respected like nowhere else” this is what I had googled about this village before coming here. But the reality seemed to be something else.

Mr.Ramdhin took me to an isolated building that night at the dead-end of the village. There late in midnight I saw Mrs. Patil nursing a young adolescent girl, beside her few more girls of same age group were sleeping. There was an old widow singing some bhajan near the window looking at the sky with tears rolling down her wrinkled cheeks. Next to the old widow few married women were sitting with pale face and burnt hands and legs. Amongst all of them was Mrs. Patil working tirelessly with a smile on her face. That sight of misery shattered the deepest corner of my heart. “What is this?? Is this the place where woman is respected like nowhere else or like everywhere else?? “Probably Google was wrong this time that’s what I was thinking when I was proved wrong yet again. Jhuma village no doubt was suffering from the disease of inhumanity towards woman but since last one year there is total change in the scenario due to the village’s sincere effort to change. Mrs. Patil like a crusader was leaving no stone unturned to make this village an ideal place for women.

Since the time see lost her child she took up this task of saving girl child. Against all odds in the middle of the night she nursed the sufferers in that haunted house. The old widow narrated the story of transition of Jhuma Village. According to her the 8odd women including her are last victims. The small girl whom Mrs. Patil was nursing was raped by a group of brats who are now in jail due to Mrs. Patil’s sincere efforts. The brides who were discarded from the houses of their in-laws are learning to live independently by stitching clothes and making clay pots. The widow is non-other than Mrs.Patil’s mother-in-law. She was repenting for her sins. Today when the entire society abandoned her for being a widow it is Mrs. Patil who gave her shelter forgetting what she did to kill her child.

“Mrs. Patil you are an angel in human flesh” I uttered spontaneously after hearing all this. In reply she said “Today woman is backward because she is not imbibing her inner strengths. Woman is allowing herself to become a toy of joy for men because she things man is more powerful. In this world no one fights for other’s rights, everyone fight for themselves. Woman should also fight for what is her right. Expecting 50% reservation or national & international programs or Women days to change our life is a foolishness. If woman can discover her inner strength then why only Jhuma village every village in the country can be an ideal village.” Those words were very touchy. The question that still remained was that if Mrs. Patil was the main revolutionary then why Mr. Patil was credited? The answer is probably the ‘selfless ness’ character of woman. Mrs. Patil imbibed strength from her husband’s support so she gave her credit to him; this is called “Bharatiya Nari Sanskriti”.

Jhuma village and many such villages have got miles to go before they can finally be an ideal place where woman is again respected for being  a mother, a wife, a teacher, a sister and a daughter.  Jhuma village and Mrs. Patil is definitely ‘A beacon in Dark’ an inspiration to carry forward the message of save womanhood. And as far as I am concerned my search for an ideal village is still on…..

 

words of Ansuman

the team @ Kritika | KIIT


index‘বন্দে মাতরম’ অর্থাৎ মাকে তথা মাতৃভূমিকে বন্দনা করার এ সঞ্জীবনী মন্ত্রকে যাঁরা জীবনের পাথেয় হিসেবে নিয়ে নিজ জীবন উৎসর্গ করে গিয়েছেন তাঁদেরই একজন বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। মাস্টারদা সূর্য সেনের সহযোদ্ধা, ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলনের এ পুরোধা ব্যক্তিত্ব স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের প্রথম নারী শহিদ। কিংবদন্তিতুল্য ব্রিটিশ প্রমোদকেন্দ্র ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণের নেপথ্য সৈনিক এ অগ্নিকন্যা শুধু একটি নাম কিংবা স্মৃতি নয় বরং একটি ঐতিহাসিক স্মারক; স্বাধীনতার গৌরবোজ্জ্বল চেতনায় উদ্ভাসিত প্রতিমূর্তি।

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ধলঘাট গ্রাম। বিপ্লবীদের ঘাঁটি এবং তাদের নানারূপ কীর্তির জন্য স্বনামেই বিখ্যাত। এ গ্রামেই জগদ্বন্দু ওয়াদ্দেদার ও প্রতিভা দেবীর ঘর আলো করে জন্ম নেয় তাদের আদরের “রাণী”।পরবর্তীতে আসকার দীঘির দক্ষিণ-পশিমে শান্ত, ছায়াসুনিবিড় দোতলা মাটির ঘরে পারিবারিক স্থানান্তরের দরুণ সেখানেই বেড়ে ওঠা। ছয় ভাই-বোনের সংসারে প্রীতিলতা ছিলেন তুলনামূলক শান্ত-শিষ্ট প্রকৃতির। প্রগতিশীল ধ্যান-ধারণার অনুসারী পিতা জগদ্বন্দু ওয়াদ্দেদার ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদেরও স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন। প্রীতিলতা ভর্তি হন ডাঃ খাস্তগীর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে।

এরপর মেঘে মেঘে বেলা অনেক গড়ালো। প্রীতিলতাও শৈশব পেরিয়ে কৈশোরে পা দিলেন। ইতোমধ্যেই ভালো ছাত্রী হিসেবে পুরো স্কুলে তার সুনাম ছড়িয়েছে। তাছাড়া অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমেও তার প্রশংসনীয় অংশগ্রহণ ফুটে উঠতে লাগলো। ঠিক এমন সময়েই তার পরিচয় ঘটে ইতিহাসে শিক্ষক ঊষাদির সাথে। ক্যালেন্ডারের ধূসর পাতা নির্দেশ করছে সময়টা তখন ১৯২৩। এ সময় টাইগার পাস মোড়ে সূর্য সেনের বিপ্লবী সংগঠনের সদস্যরা প্রকাশ্য দিবালোকে সরকারী কর্মচারীদের বেতন বাবদ ১৭০০০ টাকা ছিনতাই করে এবং এ অভিযোগে বিপ্লবীদের সাথে রীতিমত যুদ্ধ করে পুলিশ সূর্য সেন ও অম্বীকা চক্রবর্ত্তীকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনা কিশোরী প্রীতিলতার মনে অনেক প্রশ্নের জন্ম দেয়। তাছাড়া ১৯২৪ সালে ব্রিটিশ সরকার প্রণীত ‘বেঙ্গল অর্ডিন্যান্স’ আইনে অনেক বিপ্লবীকে বিনা বিচারে আটক করা শুরু হয়। প্রীতিলতা স্কুলের প্রিয় শিক্ষক ঊষাদির সাথে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করে অনেক কিছুই জানতে পারেন। তাছাড়া ঊষাদির দেয়া ‘ঝাঁসির রাণী’, নিকটাত্মীয় পূর্নেন্দু দস্তিদারের কাছ থেকে পাওয়া ‘দেশের কথা’, ‘বাঘা যতীন’, ‘ক্ষুদিরাম’, ‘কানাইলাল’ প্রভৃতি “নিষিদ্ধ” বই তিনি পড়ে ফেলেন। এসমস্ত বই তার মনে এমনই প্রভাব ফেলে যে তিনি তার পূর্নেন্দুদার কাছে তাদের বিপ্লবী দলে যোগ দেয়ার ইচ্ছার কথা জানান। অথচ তিনি তখনও দশম শ্রেণির ছাত্রী। এভাবেই তার মধ্যে বিপ্লবী চেতনার প্রকাশ পেতে থাকে। তাছাড়া তার সহপাঠী আরেক খ্যাতিমান বিপ্লবী কল্পনা দত্ত তার স্মৃতিচারণায় বলেছেন,“স্কুলে শপথ-পাঠের এক পর্যায়ে বলতে হত I shall be loyal to God and King Emperor. কিন্তু প্রীতিলতা ঘৃণাভরে এ কথা বলা থেকে বিরত থাকতেন এবং বলতে চাইতেন I shall be loyal to God and my country”. এভাবেই প্রীতিলতা এগিয়ে যাচ্ছিলেন ইতিহাস গড়ার দিকে।

ঢাকায় প্রীতিলতা ও দীপালি সংঘ : ১৯২৮ সালে ম্যাট্রিক পরীক্ষার রেজাল্ট বেরুলো। কয়েকটি লেটার মার্ক পেয়ে উত্তীর্ণ প্রীতিলতা পড়তে যান ঢাকার ইডেন কলেজে। সেখানে তিনি যুক্ত হন দীপালি সংঘ নামের একটি সংগঠনের সাথে যেটি প্রকাশ্যে লাঠিখেলা, কুস্তি, ডন-বৈঠক প্রভৃতি শেখাত কিন্তু আসলে তা ছিলো বিপ্লবীদের একটি গোপন সংগঠন। প্রীতিলতা সেখানে লাঠিখেলা, ছোরাখেলা প্রভৃতি বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেন। পরে একটা সময় তিনি তার এক আত্মজীবনীতে বলেন তার এসব কাজের মূল লক্ষ্য ছিলো নিজেকে সূর্য সেনের একজন যোগ্য কমরেড হিসেবে গড়ে তোলা। এদিকে ১৯২৯ সালের দিকে নারী সম্মেলনে যোগ দিতে প্রীতিলতা ও তার সহযোদ্ধা কল্পনা দত্ত ঢাকা থেকে কোলকাতা যান। সেখানে তারা সূর্য সেনের বিপ্লবী দলে যোগ দেয়ার চেষ্টা করেন কিন্তু ব্যর্থ হয়ে তাদের ঢাকা ফিরে আসতে হয়।
এরই মধ্যেই প্রীতিলতা আই.এ. পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আর ঠিক এই কয়েকমাসের মধ্যেই ঘটে যায় চট্টগ্রামের যুব বিদ্রোহ নামে খ্যাত সূর্য সেনের সেই বিখ্যাত বিপ্লবগাঁথা। প্রীতিলতা এ খবর পান তার পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরে আসার পর।

বরাবরই মেধাবী ছাত্রী প্রীতিলতা আই.এ. পরীক্ষায় মেয়েদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং কোলকাতার বেথুন কলেজে বি.এ. পড়তে যান।চট্টগ্রামের যুব বিদ্রোহের পর অনেক বিপ্লবীই আত্মগোপন করেন। ঠিক তেমনি প্রীতিলতার দাদা পূর্নেন্দু দস্তিদারসহ অনেক বিপ্লবী তাদের আরেক সহযোদ্ধা মনোরঞ্জন রায়ের গুণু পিসির বাড়িতে আশ্রয় নেন। প্রকৃত অর্থে তা ছিলো সকল পলাতক বিপ্লবীদের সম্মিলন স্থল। প্রীতিলতা সেখানে তার দাদার সাথে দেখা করতে গিয়ে আরো অনেকের সাথেই পরিচিত হন। সেসব নারী বিপ্লবীরা নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখতেন। পরবর্তীতে মাস্টারদার গোপন নির্দেশে মনোরঞ্জন রায় কোলকাতা থেকে গান পাউডার ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম চট্টগ্রামে সরবরাহ করেন। এটার সমূহ বিপদ নিয়ে মনোরঞ্জন রায় মাস্টারদার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ফলে মাস্টারদা নতুন করে চিন্তা-ভাবনা ক্করা শুরু করেন এবং এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে এ ধরণের কাজে নারীদের ব্যবহার করা হবে কেননা তখনও গোয়েন্দা বিভাগ এসব ব্যাপারে নারীদের সন্দেহ করতো না। আর তখন থেকেই বিপ্লবী কাজে নারীদের ব্যবহার করা শুরু হয় আর তখন থেকেই প্রীতিলতা বিপ্লবী দলে সক্রিয় ভূমিকা রাখার সুযোগ পান। তিনি মাস্টারদার প্রেরিত বিভিন্ন ইশতেহার সাইক্লোস্টাইলে ছাপিয়ে কোলকাতার বিভিন্ন স্থানে বিতরণ করা শুরু করেন। আর তার উল্লেখযোগ্য কাজের আরেকটি ছিল গোপনে কিংবা ছদ্মবেশে জেলখানায় বন্দী বিপ্লবীদের সাথে দেখা করা।

শিক্ষিকা প্রীতিলতা এবং বিপ্লবের প্রথম সোপান : কোলকাতা থেকে বি.এ. পাস করার পর চট্টগ্রামে এসে প্রীতিলতা দেখেন যে তার বাবার চাকরি নেই। তাই সংসারের হাল ধরবার জন্য প্রীতিলতা নন্দনকানন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে( বর্তমানে অপর্ণাচরণ সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়) প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নেন। তখনও তিনি পুষে রেখেছেন মাস্টারদার সাথে তার সাক্ষাতের আজন্ম লালিত স্বপ্ন। একদিন তিনি তার এ স্বপ্নের কথা বলেই ফেললেন আরেক বিপ্লবী কল্পনা দত্তকে। ১৯৩২ সালের মে মাসের গোড়ার দিকে তার এ দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সময়ের অবসান ঘটে। মাস্টারদার সাথে সাক্ষাতে তিনি প্রায় দুই ঘন্টার মত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন ও পরিষ্কার ভাবেই তার Action করার ইচ্ছার কথা জানান এবং তার পর দিনই সাবিত্রী দেবীর বাড়িতে Triggering ও Targeting এর উপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

ধলঘাট সংঘর্ষ : চট্টগ্রামের যুব বিদ্রোহের পর পুলিশের ব্যাপক ধর-পাকড় অভিযানের কারণে বিপ্লবীরা একের পর এক উদ্যোগ গ্রহণ করেও সফল হতে পারছিলেন না। আর তাছাড়া দলের মূল দুই সদস্য সূর্য সেন ও নির্মল সেন তখন দলের সাংগঠনিক কাজে ব্যস্ত। এমনই সময় জুন মাসের ১২ তারিখ সূর্য সেন প্রীতিলতাকে ডাকেন তাদের গোপন আস্তানা সাবিত্রী দেবীর বাড়িতে। উল্লেখ্য এ বাড়ি থেকে মাত্র দশ মিনিটের দূরত্বে ছিলো আর্মি ক্যাম্প। হঠাৎ ১৩ তারিখ মিলিটারিরা তাদের অবস্থানের কথা জানতে পারে এবং ক্যাপ্টেন ক্যামেরনের নেতৃত্বে একটি দল যায় তাদের গ্রেফতার করতে। এ অভিযানে নির্মল সেন সহ বেশ কয়েকজন নেতৃস্থানীয় নেতা নিহত হন কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে প্রীতিলতা বেঁচে যান এবং সূর্য সেন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।কিন্তু পরবর্তীতে বিভিন্ন নথিপত্র উদ্ধারের মাধ্যমে প্রীতিলতার বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের প্রমাণ পাওয়া যায় এবং বেঙ্গল পুলিশের সি আই ডি কর্তৃপক্ষ তাকে ধরার জন্য নোটিশ জারি করে। আর তিনি, মাস্টারদা, তারকেশ্বর দস্তিদারসহ বেশ কয়েকজন বিপ্লবী আত্মগোপন করেন কুন্তলা নামের এক বাড়িতে এবং ছক কাটতে থাকেন ইউরোপীয়ান ক্লাব আক্রমণের।

ইউরোপীয়ান ক্লাব এবং একটি ইতিহাস : “Dog and Indians are prohibited” -খচিত সাইনবোর্ড টাঙ্গানো ইউরোপীয়ান ক্লাবের সামনে। ইন্ডিয়ানদের কুকুরের সাথে তুলনার সূক্ষ্ম ইঙ্গিত তাতে। ব্রিটিশ বেনিয়াদের এ প্রমোদকেন্দ্রটির চারদিক পাহাড় দিয়ে বেষ্টিত। ক্লাবের চারদিকেই সতর্ক প্রহরা। শ্বেতাঙ্গ ছাড়া কেউই সেখানে প্রবেশ করতে পারতো না। এমনই একটি ক্লাবে বিপ্লবীরা যুব বিদ্রোহেই আক্রমণ করতে চেয়েছিলেন কিন্তু গুড ফ্রাইডের কারণে তা আর আলোর মুখ দেখে নি। কিন্তু এবার তারা বদ্ধ পরিকর হামলা চালাবার ব্যাপারে। শৈলেশ্বর চক্রবর্ত্তীর নেতৃত্বে একটি দল ১০ আগস্ট ক্লাব আক্রমণের চেষ্টা চালান কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে তাদের ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসতে হয়। অতঃপর মাস্টারদা এ কাজের দায়িত্ব নারী বিপ্লবীদের দেয়ার চিন্তা-ভাবনা করা শুরু করেন এবং শেষমেশ দায়িত্ব দেন কল্পনা দত্তকে। কিন্তু তিনি পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যাওয়ার কারণে এর ভার পরে প্রীতিলতার উপর। পরিকল্পনা ছিলো পূর্ব দিকে ওয়েবলি রিভলবার ও বোমা নিয়ে প্রীতিলতা,শান্তি চক্রবর্ত্তী,কালিকিঙ্কর দে-দক্ষিণ দিকে রিভলবার নিয়ে সুশীল দে,মহেন্দ্র চৌধুরী-উত্তর দিকে রাইফেল নিয়ে পান্না সেন ও প্রফুল্ল দাস আক্রমণ করবেন। ক্লাবের পাশেই পাঞ্জাবি কোয়ার্টার হওয়াতে প্রীতিলতার পরনে ছিলো মালকোঁচা দেয়া ধুতি ও পাঞ্জাবি আর মাথায় সাদা পাগড়িতে পাঞ্জাবি সাজ। ঠিক ১০ টা ৪৫ মিনিটে আক্রমণের নিশানা ঠিক করার পর হুইসেল বাজালেন দলনেতা প্রীতিলতা। সাথে সাথে ঘন ঘন বোমা আর গুলির আঘাতে কেঁপে উঠতে থাকে পুরো ক্লাব আর পুরো এলাকা পরিণত হয় নরকে। কিন্তু কয়েকজন ইংরেজ অফিসারের কাছে রিভলবার থাকায় তারা পাল্টা আক্রমণ চালালে প্রীতিলতার বাঁ পাশে আঘাত লাগে। কিন্তু তারপরেও তিনি অপারেশনের নিয়ম অনুসারে সবার পিছন পিছন বেরিয়ে আসতে থাকেন। কিন্তু আরেকজন ইংরেজ অফিসার তাকে তাড়া করলে প্রীতিলতা তার এক সহযোগী কালীকিঙ্কর দে-কে তার মুখে পটাসিয়াম সায়ানাইড ঢেলে দিতে বলেন।ইংরেজের হাতে জীবন দেয়ার চেয়ে আত্মহত্যাকেই শ্রেয় মনে করলেন এই মহীয়সী বিপ্লবী।

এবং অতঃপর : প্রীতিলতার মৃত্যুর অনেকটা সময়ই পেরিয়ে গেলো।তার মৃত্যুর পরপরই তার বাবা প্রায় অপ্রকৃতিস্থ হয়ে যান। আর স্বাভাবিকভাবেই তার পরিবারে নেমে আসলো শোকের কালো ছায়া যা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বহন করেছেন তার বাবা-মা।

এ বীরকন্যার স্মৃতিকে অম্লান করে রাখার জন্য প্রশাসনযন্ত্রের মাত্রাতিরিক্ত ঔদাসীন্য চরম লজ্জাজনক। প্রীতিলতা যেন এখন ভগ্ন স্মৃতিসৌধ দিয়ে ঘেরা নাম। প্রশাসন তার দায় সম্পন্ন করেছে গুটিকয়েক স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের মাধ্যমে। এমনকি এ বীরকন্যার ভিটেমাটির ধ্বংসাবশেষও আজ আর নেই।মহান ধলঘাট সংঘর্ষের গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য যে ফলক নির্মাণ করা হয়েছিলো তা রীতিমত ধ্বংসের পথে।

ইউরোপীয়ান ক্লাবের সেই ঐতিহাসিক ঘরটি রেলওয়ের গুদামঘর। মাঝখানে প্রীতিলতা ফান্ডের আওতায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তার আবক্ষ মূর্তি উন্মোচন করা হয়েছে। আর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তার নামে যে কয়টি হল রয়েছে সেসবেও নেই এ মহান বিপ্লবীকে চেনার সুযোগ। সবচেয়ে লজ্জাজনক ব্যাপার এই যে এ অগ্নিকন্যার বীরত্বগাঁথা আজ পর্যন্ত কোন পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভূক্ত হয় নি, যার কারণে প্রজন্মের কাছে তার বিপ্লবগাঁথা যেন এক কল্পকাহিনী। এমনকি বেশ কয়েকমাস আগে তার স্মৃতিবিজড়িত অপর্ণাচরণ সিটি কর্পোরেশন বিদ্যালয়ে বহুতল ভবন নির্মাণের মত ন্যক্কারজনক উদ্যোগও নেয়া হয়েছে।

তবে গত বছর বেশ ঘটা করেই পালন করা হয় তার জন্মশতবার্ষিকী এবং এ বছরও তার আত্মাহুতি দিবস সাড়ম্বরেই পালন করা হয়। এক্ষেত্রে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, সমাজ সমীক্ষা সংঘ প্রভৃতি সংগঠন বেশ প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখা চলেছে। তবে এজন্য সরকারকেও এগিয়ে আসতে হবে। রাষ্ট্রীয়ভাবে তার প্রতি সম্মান জানানোর ব্যবস্থা করতে হবে। তবেই হয়তো আমরা আমাদের এতো দিনের করা পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে পারবো।

এ অগ্নিকন্যার জন্য আমাদের চোখজুড়ে অশ্রু আর বুকভরা স্ফীত অহংকার।

read more from our partners ReflectiveTeens

Dazzling Simplicity

Posted: September 7, 2014 by CampusWriting in Writes...
Tags: , ,

Wearing a skin-clutching blue dress, she took extra care to justify the occasion.

Sweeping eyelashes over her midnight blue eyes, pink lips, flawless defined curves, edged heels giving her elegance, teaser to the rest.

While others could not have enough of a glance in her direction,

She stood in the doorway, hair swaying by the wind, looking passionately as I arrived. 

Hands on her hips and arching eyebrows she gave me a sheepish smile, ready to receive plaudits.

Did she not know that she could dazzle me by her simplicity alone?

Soumyaa Verma

Faculty of law, MSU, Vadodara


कभी तो बुलाया होगा …मुझे अपने तसव्वुर मे ,
वरना मेरा दिल… यूं ही किसी के लिए बेकरार नही होता !

कभी तो जागा होगा… एक विश्वास मेरे लिए , तेरे अहसासों की हवाओ मे ,
वरना इन हवाओ पर… यूं ही मुझको ऐतबार नही होता !

कभी तो हराया होगा…तूने मेरे अहम को ,अपने तासीर की सीमाओं मे ,
वरना मेरा अहम …यूं ही शर्मसार नही होता !

कभी तो कुछ नशा घोला होगा… तूने भी , इन बहती फिज़ाओ मे ,
वरना मैं कभी… यूं ही इतना तेरा तलबदार नही होता !

कभी तो ‘बादल’ बन छुआ होगा… मैंने तेरे मन की ‘तह’ को , तेरे सौबत के ‘आँगन’ मे ,
वरना तेरी आंखो से वो ‘भीगा’ आँगन …यूं ही इतना खुशगवार नही होता !

कभी तो जीता होगा… मैंने तेरे दिल को , तेरे नफरत की आंधीयों मे ,
वरना तुझे मुझसे… यूं ही प्यार नही होता !

Vishal Maurya

Zakir Husain Delhi College, DU

inspartec@gmail.com


देश में पहले भी आपराधिक घटनाऐं होती रही हैं । लेकिन लगभग 10 वर्षों से इसमें बहुत इजाफा हुआ है । बल्कि नारी समाज को जिस तरह से प्रताड़ित किया गया है वो बहुत निंदनीय है । जिस समाज में औरत को देवी का दर्जा प्राप्त है,वहीं पर उसके इज्जत के साथ खिलवाड़ किया जाता है । यह सब देखकर भी हम लोग चुप रह जाते हैं । आखिर इन सब के पीछे कारण क्या है? कारण तो बहुत हैं पर उनमें से एक है,पश्चिमि सभ ्यता के पीछे भागना और गंदी सोच का पनपना ।

हमारी संसक्रिति और सभ्यता कभी भी हमें गलत नहीं सिखाती थी । क्या ये वही भारत वर्ष है,जहाँ नारी को सर्वोपरी माना जाता था ? क्या ये वही देश है,जहाँ नारी का स्थान पहले था ? क्या ये वही देश है,जहाँ सती और सीता का जन्म हुआ था ? बहुत व्यथा के साथ कहना पड़ता है कि, नहीं ये यह वो भारत नहीं रहा ।

बदल चुका है देश । बदलाव कुछ मामलों में अच्छें है,लेकिन अधिकतम मामलों में नकारात्मक ही प्रभाव पड़ा है ।इतिहास गवाह है कि भारत देश सदैव गुरु की भूमिका में रहा है । लेकिन उसके ही बच्चे गलत राह पर जा रहें हैं । हम चमक के पीछे भागना चाहतें हैं,भले उसका अंजाम जो भी हो ।

देश का हाल ऐसा हो गया है कि नारी शक्ति को सलाम करने वाला देश,उसे ही सम्मान नहीं दे पा रहा । आखिर क्यूँ हर रोज देश के किसी ना किसी कोने में उनकी इज्जत के साथ खिलवाड़ किया जा रहा है ? आखिर क्यूँ एक लड़की अकेले घर से बाहर जाने में घबराने लगी है ? सवाल बहुत हैं,जवाब भी हमारे ही अंदर ही छुपा हुआ है । जरुरत है मानसिकता बदलने की,वक्त के साथ नारी जगत के साथ-साथ चलने की ।

भगवान ने भी नारी को “जननी” का दर्जा दिया है,तो हम कौन होते हैं उनके साथ खिलवाड़ करने वाले ?हम कौन होते हैं,उनके साथ अन्याय करने वाले ? पुरुष और नारी एक दूसरे के लिये पूरक हैं । हम सभी को जरुरत है,अपने नजरीये को बदलने की जहाँ कुछ लोग नारीयों के साथ दुर्व्यवहार करते रहते हैं ।

लेकिन वो भूल जाते हैं कि उसी नारी रुप ने उसे जन्म भी दिया है । अगर नारी ना होतीं तो यह पूरा ब्रम्हाण्ड भी ना होता ,ना ही हम पुरुष होते । समाज को बचाना है अगर तो अब भी जाग जाओ और नारी का सम्मान करो । अंततः खत्म करने से पहले एक वाक्य कहना चाहूँगा कि – “नारी का सम्मान जहाँ,समाज का उत्थान वहाँ ।

Indranil Sukla

KIIT University

suklaindranil@gmail.com

Reproduced Imagery

Posted: August 23, 2014 by CampusWriting in Contest, Writes...
Tags: , , , ,

“If you see the world in black and white, you’re missing the important grey matter.”

Similar is the motif. Journalist Sydney J. Harris once quoted as saying, “The whole purpose of education is to turn mirrors into windows.”

The line may seem complex on reading once or maybe twice, however isn’t so abstract after the third. Looking into the mirror one may get eyeful of oneself, which limits our view to become a social evil, to become full of “me”.

However, education makes us clairvoyant. It fades the mirror to become window, provide with the much needed perspective and an outward look. The view of the horizon of opportunities, through the window of education is serene, (Yes, despite of the concrete monsters, having a tendency to block the view) just like the opportunities one gets on gaining higher education.

However, the students now know failure isn’t an option but an inevitable truth. We all are set to chase down our dreams, to become leaders of tomorrow.

Abhishek Mantri

SPC, Pune

abhishekmantri9@gmail.com

Convivial Relationships

Posted: August 22, 2014 by CampusWriting in Contest, Writes...
Tags: , , , ,

What’s being a friend when you’re not there for each other at your worst?

This quote above just passed me by in a column I was reading with just an eye open, and soon as they hit my head, I couldn’t stop my thoughts from running helter-skelter.

Sometimes, it’s so hard being who you are and finding who you are, that maintaining friends becomes a little tricky! Somehow I always have managed to get some real personalities – maybe by people pleasing, or being goofy – who till date I etch onto. There are so many instances in my short life of 20 years that I have witnessed such humbleness of these wretched souls that it’s scary.

We all have certain traits and the beauty of being friends with different humans is the end result. It’s such a beautiful amalgamation of emotions, so raw and undermined. That sort of understatement is what everyone longs and it beckons everyone in the back of the head, like a burning sensation.

We all crave that sort of a relationship with a soul, where there is no surreptitious behavior, no malice and any kind of negativity. One said truly that when you have good friends, you don’t need any other mean of entertainment. Such joys, of having that person in your life where you can be goofy and still not give a damn is so appealing to me, and I guess anyone. Because let’s face it, no one likes to be judged!

My own friends are such drastic ends of a spectrum, they’re scattered in every dimension I can think of. Some, have famously become infamous, and the others, well, are still with me. I’m picky about the people I like to hang around because it is indeed disheartening to have someone be your friend and use your name in a derogatory manner. I think that sort of a negative environ is not and should not be entertained.

Rants after rants, I can say that I love myself more than my friends I’ve come to a conclusion that I owe so much of my personality to these souls I’ve come across because, it is of their immense criticism and clandestine behavior, I am what I am.

And I’m happy that this essay has no head and no tail, because I feel when you plan what you want to write, it becomes sketchy. I like it that it is crude, fibrous, and callow because for me, that is the essence of friendship.

Here’s to being a friend, forever and ever

Devesh Baheti

Institute Of Aeronautical Engineering

deveshbaheti84@gmail.com

TODAY TOMORROW YESTERDAY

Posted: August 8, 2014 by CampusWriting in Contest, Writes...
Tags: , ,

Tuesday the 29th of April – 201412.15 A.m.

Why it is so that every other love story that we read have a happy ending. Is it so that life always follows the trend that if today it’s sadness then tomorrow it’s gonna be happiness. Can this trend ever stop?
Real life love stories are very different from the fiction ones, but we realize that only at the end, during the whole time we keep asking our self a question that is the story which I am reading somewhere depicts my own real life story too, I believe that it’s just a matter of fact that happiness brings people close but sadness closer, when we read about someone we start keeping our self in their shoes, we become the protagonist of the story, at times we cry, at times we laugh, at times we become sad and the very moment we become happy, our emotions plays a melodrama in front of us which changes with the changing pages of the story book.

But we often forget that one’s own life is a best seller novel indeed, hundreds of stories are hidden in there, every day we experience some strong emotions but sadly we don’t give emphasis on our own story and to keep us busy we start reading someone else’s.

Life is full of irony, the face off with which I just had a few minutes back I was reading a novel by a much cherished and acknowledged author “Ravinder Singh” CAN LOVE HAPPEN TWICE. At times while reading it I had this strong feeling that hey is it my story too but the very next moment I realized that naah it’s just another love story. I came across a few quotes in the novel which I found interesting and thought about sharing the same over SMS with two of my friends, one of whom was my good friend and the other was the gal I loved the most in my life.

“Love like life is so insecure it moves in our lives and occupies its sweet space in our hearts so easily, but it never guarantees that it will stay there forever. Probably that it why it’s so precious”

Just after sending the quote over SMS I came over a section in the novel where Simar finally tells Ravin that she is sorry and she can’t marry him.

Strangely at that sudden moment I found my cel having received a SMS from her, I had mixed feeling coz from the last few months things were not going the way they should had been, but still I was smiling probably over my fate that awaited or coz of the fact that whenever I use to remember her a smile use to spread on my face. But tonight my smile faded, faded the very moment I read the contents of the SMS, a tear rolled down from my eyes, the sight began to become hazy and I felt choked. The tear dried on my cheeks even before falling on the ground, probably because I had cried for her a hundred times before and tonight was the last time I did or probably not. The contents of the massage were piercing every single living cell in my body with every single word with which they were formed and read as follows.

“I am going to get married on 1st of May 2014 and I will be discarding my this number from tomorrow, I am in Varanasi right now will talk once I come(god knows coming where she meant) or will call you from my new number if I happen to take one.”

The very moment and all I could manage was to send her a reply SMS. “Can we talk now?”

That was the least that could have been asked for as that little mattered the most to me at that moment, my life was being held by a thin thread of hope. But I was far away from being lucky, lucky not even for once.
I was constantly turning in my bed, I was restless and sleep was miles away from my eyes, I was waiting for her reply and time began to move in slow motion then I decided to complete the last few pages of the novel while waiting for her reply hoping that at the end every love story have a happy ending and so will mine,but I was wrong. Reality had put a tight slap on my face when I realized that at the end every other love story do have a happy ending but not mine!

In that short span of time I had read that SMS numerous times hoping that on opening the SMS next time some miracle will happen and that SMS may turn out tobe one of the forwarded SMS but no reality is certain and does not changes to the likes and dislikes of human being.

I kept rolling on the bed with my eyes wide spread hoping to find that inner peace so as to aid me in getting some sleep but every attempt of mine got failed and finally I decided to bring my heart out in the open, sadly on paper as at that time of the night I was lonely, I had no one to talk to or the one who was, was the reason why I was in urgent need to calm down my heart beats…………..

Tuesday 29th of April 2014 01.05 A.M.

P.S.Sleep still miles away

Sumit Keshan

sumitkeshan@hotmail.com


एक रोज जो ‘जिंदगी’ ने दी थी गवाही, मेरे ख्वाब के सच होने की
आज जब पहुचा ‘अदालत –ऐ-जिंदगी’ मे तो , बयान से मुकरने लगी ।

सोचा था जो… ये हवाए , परवाज़ देंगी मुझे ‘मंजिल की दिशा’ मे
आज जो उड़ान भरी तो , अपना रुख बदलने लगी ।

गुमान था…. जिस ‘दोस्ती’ पर ,कहते थे यार जिनको
आज जब मुश्किलों से सामना हुआ तो , दोस्ती दगा देने लगी ।

कहती थी… जो ‘रात’ मुझसे ,मेरे ख्वाबों को सहेजेगी
आज जब ख्वाब पूरा होने को हुआ तो , सुबह को बुलाने लगी ।

सँजोये रखा था… जिस ‘दर्द’ को , के लिखेंगे कभी ‘मरहम की स्याही’ मे डुबोकर
आज जब ‘विशाल’ लिखने बैठा तो , स्याही सूखने लगी ……..

Vishal Maurya

Zakir Husain Delhi College, DU

inspartec@gmail.com