Posts Tagged ‘Love’


index‘বন্দে মাতরম’ অর্থাৎ মাকে তথা মাতৃভূমিকে বন্দনা করার এ সঞ্জীবনী মন্ত্রকে যাঁরা জীবনের পাথেয় হিসেবে নিয়ে নিজ জীবন উৎসর্গ করে গিয়েছেন তাঁদেরই একজন বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। মাস্টারদা সূর্য সেনের সহযোদ্ধা, ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলনের এ পুরোধা ব্যক্তিত্ব স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের প্রথম নারী শহিদ। কিংবদন্তিতুল্য ব্রিটিশ প্রমোদকেন্দ্র ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণের নেপথ্য সৈনিক এ অগ্নিকন্যা শুধু একটি নাম কিংবা স্মৃতি নয় বরং একটি ঐতিহাসিক স্মারক; স্বাধীনতার গৌরবোজ্জ্বল চেতনায় উদ্ভাসিত প্রতিমূর্তি।

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ধলঘাট গ্রাম। বিপ্লবীদের ঘাঁটি এবং তাদের নানারূপ কীর্তির জন্য স্বনামেই বিখ্যাত। এ গ্রামেই জগদ্বন্দু ওয়াদ্দেদার ও প্রতিভা দেবীর ঘর আলো করে জন্ম নেয় তাদের আদরের “রাণী”।পরবর্তীতে আসকার দীঘির দক্ষিণ-পশিমে শান্ত, ছায়াসুনিবিড় দোতলা মাটির ঘরে পারিবারিক স্থানান্তরের দরুণ সেখানেই বেড়ে ওঠা। ছয় ভাই-বোনের সংসারে প্রীতিলতা ছিলেন তুলনামূলক শান্ত-শিষ্ট প্রকৃতির। প্রগতিশীল ধ্যান-ধারণার অনুসারী পিতা জগদ্বন্দু ওয়াদ্দেদার ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদেরও স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন। প্রীতিলতা ভর্তি হন ডাঃ খাস্তগীর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে।

এরপর মেঘে মেঘে বেলা অনেক গড়ালো। প্রীতিলতাও শৈশব পেরিয়ে কৈশোরে পা দিলেন। ইতোমধ্যেই ভালো ছাত্রী হিসেবে পুরো স্কুলে তার সুনাম ছড়িয়েছে। তাছাড়া অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমেও তার প্রশংসনীয় অংশগ্রহণ ফুটে উঠতে লাগলো। ঠিক এমন সময়েই তার পরিচয় ঘটে ইতিহাসে শিক্ষক ঊষাদির সাথে। ক্যালেন্ডারের ধূসর পাতা নির্দেশ করছে সময়টা তখন ১৯২৩। এ সময় টাইগার পাস মোড়ে সূর্য সেনের বিপ্লবী সংগঠনের সদস্যরা প্রকাশ্য দিবালোকে সরকারী কর্মচারীদের বেতন বাবদ ১৭০০০ টাকা ছিনতাই করে এবং এ অভিযোগে বিপ্লবীদের সাথে রীতিমত যুদ্ধ করে পুলিশ সূর্য সেন ও অম্বীকা চক্রবর্ত্তীকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনা কিশোরী প্রীতিলতার মনে অনেক প্রশ্নের জন্ম দেয়। তাছাড়া ১৯২৪ সালে ব্রিটিশ সরকার প্রণীত ‘বেঙ্গল অর্ডিন্যান্স’ আইনে অনেক বিপ্লবীকে বিনা বিচারে আটক করা শুরু হয়। প্রীতিলতা স্কুলের প্রিয় শিক্ষক ঊষাদির সাথে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করে অনেক কিছুই জানতে পারেন। তাছাড়া ঊষাদির দেয়া ‘ঝাঁসির রাণী’, নিকটাত্মীয় পূর্নেন্দু দস্তিদারের কাছ থেকে পাওয়া ‘দেশের কথা’, ‘বাঘা যতীন’, ‘ক্ষুদিরাম’, ‘কানাইলাল’ প্রভৃতি “নিষিদ্ধ” বই তিনি পড়ে ফেলেন। এসমস্ত বই তার মনে এমনই প্রভাব ফেলে যে তিনি তার পূর্নেন্দুদার কাছে তাদের বিপ্লবী দলে যোগ দেয়ার ইচ্ছার কথা জানান। অথচ তিনি তখনও দশম শ্রেণির ছাত্রী। এভাবেই তার মধ্যে বিপ্লবী চেতনার প্রকাশ পেতে থাকে। তাছাড়া তার সহপাঠী আরেক খ্যাতিমান বিপ্লবী কল্পনা দত্ত তার স্মৃতিচারণায় বলেছেন,“স্কুলে শপথ-পাঠের এক পর্যায়ে বলতে হত I shall be loyal to God and King Emperor. কিন্তু প্রীতিলতা ঘৃণাভরে এ কথা বলা থেকে বিরত থাকতেন এবং বলতে চাইতেন I shall be loyal to God and my country”. এভাবেই প্রীতিলতা এগিয়ে যাচ্ছিলেন ইতিহাস গড়ার দিকে।

ঢাকায় প্রীতিলতা ও দীপালি সংঘ : ১৯২৮ সালে ম্যাট্রিক পরীক্ষার রেজাল্ট বেরুলো। কয়েকটি লেটার মার্ক পেয়ে উত্তীর্ণ প্রীতিলতা পড়তে যান ঢাকার ইডেন কলেজে। সেখানে তিনি যুক্ত হন দীপালি সংঘ নামের একটি সংগঠনের সাথে যেটি প্রকাশ্যে লাঠিখেলা, কুস্তি, ডন-বৈঠক প্রভৃতি শেখাত কিন্তু আসলে তা ছিলো বিপ্লবীদের একটি গোপন সংগঠন। প্রীতিলতা সেখানে লাঠিখেলা, ছোরাখেলা প্রভৃতি বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেন। পরে একটা সময় তিনি তার এক আত্মজীবনীতে বলেন তার এসব কাজের মূল লক্ষ্য ছিলো নিজেকে সূর্য সেনের একজন যোগ্য কমরেড হিসেবে গড়ে তোলা। এদিকে ১৯২৯ সালের দিকে নারী সম্মেলনে যোগ দিতে প্রীতিলতা ও তার সহযোদ্ধা কল্পনা দত্ত ঢাকা থেকে কোলকাতা যান। সেখানে তারা সূর্য সেনের বিপ্লবী দলে যোগ দেয়ার চেষ্টা করেন কিন্তু ব্যর্থ হয়ে তাদের ঢাকা ফিরে আসতে হয়।
এরই মধ্যেই প্রীতিলতা আই.এ. পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আর ঠিক এই কয়েকমাসের মধ্যেই ঘটে যায় চট্টগ্রামের যুব বিদ্রোহ নামে খ্যাত সূর্য সেনের সেই বিখ্যাত বিপ্লবগাঁথা। প্রীতিলতা এ খবর পান তার পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরে আসার পর।

বরাবরই মেধাবী ছাত্রী প্রীতিলতা আই.এ. পরীক্ষায় মেয়েদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং কোলকাতার বেথুন কলেজে বি.এ. পড়তে যান।চট্টগ্রামের যুব বিদ্রোহের পর অনেক বিপ্লবীই আত্মগোপন করেন। ঠিক তেমনি প্রীতিলতার দাদা পূর্নেন্দু দস্তিদারসহ অনেক বিপ্লবী তাদের আরেক সহযোদ্ধা মনোরঞ্জন রায়ের গুণু পিসির বাড়িতে আশ্রয় নেন। প্রকৃত অর্থে তা ছিলো সকল পলাতক বিপ্লবীদের সম্মিলন স্থল। প্রীতিলতা সেখানে তার দাদার সাথে দেখা করতে গিয়ে আরো অনেকের সাথেই পরিচিত হন। সেসব নারী বিপ্লবীরা নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখতেন। পরবর্তীতে মাস্টারদার গোপন নির্দেশে মনোরঞ্জন রায় কোলকাতা থেকে গান পাউডার ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম চট্টগ্রামে সরবরাহ করেন। এটার সমূহ বিপদ নিয়ে মনোরঞ্জন রায় মাস্টারদার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ফলে মাস্টারদা নতুন করে চিন্তা-ভাবনা ক্করা শুরু করেন এবং এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে এ ধরণের কাজে নারীদের ব্যবহার করা হবে কেননা তখনও গোয়েন্দা বিভাগ এসব ব্যাপারে নারীদের সন্দেহ করতো না। আর তখন থেকেই বিপ্লবী কাজে নারীদের ব্যবহার করা শুরু হয় আর তখন থেকেই প্রীতিলতা বিপ্লবী দলে সক্রিয় ভূমিকা রাখার সুযোগ পান। তিনি মাস্টারদার প্রেরিত বিভিন্ন ইশতেহার সাইক্লোস্টাইলে ছাপিয়ে কোলকাতার বিভিন্ন স্থানে বিতরণ করা শুরু করেন। আর তার উল্লেখযোগ্য কাজের আরেকটি ছিল গোপনে কিংবা ছদ্মবেশে জেলখানায় বন্দী বিপ্লবীদের সাথে দেখা করা।

শিক্ষিকা প্রীতিলতা এবং বিপ্লবের প্রথম সোপান : কোলকাতা থেকে বি.এ. পাস করার পর চট্টগ্রামে এসে প্রীতিলতা দেখেন যে তার বাবার চাকরি নেই। তাই সংসারের হাল ধরবার জন্য প্রীতিলতা নন্দনকানন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে( বর্তমানে অপর্ণাচরণ সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়) প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নেন। তখনও তিনি পুষে রেখেছেন মাস্টারদার সাথে তার সাক্ষাতের আজন্ম লালিত স্বপ্ন। একদিন তিনি তার এ স্বপ্নের কথা বলেই ফেললেন আরেক বিপ্লবী কল্পনা দত্তকে। ১৯৩২ সালের মে মাসের গোড়ার দিকে তার এ দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সময়ের অবসান ঘটে। মাস্টারদার সাথে সাক্ষাতে তিনি প্রায় দুই ঘন্টার মত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন ও পরিষ্কার ভাবেই তার Action করার ইচ্ছার কথা জানান এবং তার পর দিনই সাবিত্রী দেবীর বাড়িতে Triggering ও Targeting এর উপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

ধলঘাট সংঘর্ষ : চট্টগ্রামের যুব বিদ্রোহের পর পুলিশের ব্যাপক ধর-পাকড় অভিযানের কারণে বিপ্লবীরা একের পর এক উদ্যোগ গ্রহণ করেও সফল হতে পারছিলেন না। আর তাছাড়া দলের মূল দুই সদস্য সূর্য সেন ও নির্মল সেন তখন দলের সাংগঠনিক কাজে ব্যস্ত। এমনই সময় জুন মাসের ১২ তারিখ সূর্য সেন প্রীতিলতাকে ডাকেন তাদের গোপন আস্তানা সাবিত্রী দেবীর বাড়িতে। উল্লেখ্য এ বাড়ি থেকে মাত্র দশ মিনিটের দূরত্বে ছিলো আর্মি ক্যাম্প। হঠাৎ ১৩ তারিখ মিলিটারিরা তাদের অবস্থানের কথা জানতে পারে এবং ক্যাপ্টেন ক্যামেরনের নেতৃত্বে একটি দল যায় তাদের গ্রেফতার করতে। এ অভিযানে নির্মল সেন সহ বেশ কয়েকজন নেতৃস্থানীয় নেতা নিহত হন কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে প্রীতিলতা বেঁচে যান এবং সূর্য সেন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।কিন্তু পরবর্তীতে বিভিন্ন নথিপত্র উদ্ধারের মাধ্যমে প্রীতিলতার বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের প্রমাণ পাওয়া যায় এবং বেঙ্গল পুলিশের সি আই ডি কর্তৃপক্ষ তাকে ধরার জন্য নোটিশ জারি করে। আর তিনি, মাস্টারদা, তারকেশ্বর দস্তিদারসহ বেশ কয়েকজন বিপ্লবী আত্মগোপন করেন কুন্তলা নামের এক বাড়িতে এবং ছক কাটতে থাকেন ইউরোপীয়ান ক্লাব আক্রমণের।

ইউরোপীয়ান ক্লাব এবং একটি ইতিহাস : “Dog and Indians are prohibited” -খচিত সাইনবোর্ড টাঙ্গানো ইউরোপীয়ান ক্লাবের সামনে। ইন্ডিয়ানদের কুকুরের সাথে তুলনার সূক্ষ্ম ইঙ্গিত তাতে। ব্রিটিশ বেনিয়াদের এ প্রমোদকেন্দ্রটির চারদিক পাহাড় দিয়ে বেষ্টিত। ক্লাবের চারদিকেই সতর্ক প্রহরা। শ্বেতাঙ্গ ছাড়া কেউই সেখানে প্রবেশ করতে পারতো না। এমনই একটি ক্লাবে বিপ্লবীরা যুব বিদ্রোহেই আক্রমণ করতে চেয়েছিলেন কিন্তু গুড ফ্রাইডের কারণে তা আর আলোর মুখ দেখে নি। কিন্তু এবার তারা বদ্ধ পরিকর হামলা চালাবার ব্যাপারে। শৈলেশ্বর চক্রবর্ত্তীর নেতৃত্বে একটি দল ১০ আগস্ট ক্লাব আক্রমণের চেষ্টা চালান কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে তাদের ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসতে হয়। অতঃপর মাস্টারদা এ কাজের দায়িত্ব নারী বিপ্লবীদের দেয়ার চিন্তা-ভাবনা করা শুরু করেন এবং শেষমেশ দায়িত্ব দেন কল্পনা দত্তকে। কিন্তু তিনি পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যাওয়ার কারণে এর ভার পরে প্রীতিলতার উপর। পরিকল্পনা ছিলো পূর্ব দিকে ওয়েবলি রিভলবার ও বোমা নিয়ে প্রীতিলতা,শান্তি চক্রবর্ত্তী,কালিকিঙ্কর দে-দক্ষিণ দিকে রিভলবার নিয়ে সুশীল দে,মহেন্দ্র চৌধুরী-উত্তর দিকে রাইফেল নিয়ে পান্না সেন ও প্রফুল্ল দাস আক্রমণ করবেন। ক্লাবের পাশেই পাঞ্জাবি কোয়ার্টার হওয়াতে প্রীতিলতার পরনে ছিলো মালকোঁচা দেয়া ধুতি ও পাঞ্জাবি আর মাথায় সাদা পাগড়িতে পাঞ্জাবি সাজ। ঠিক ১০ টা ৪৫ মিনিটে আক্রমণের নিশানা ঠিক করার পর হুইসেল বাজালেন দলনেতা প্রীতিলতা। সাথে সাথে ঘন ঘন বোমা আর গুলির আঘাতে কেঁপে উঠতে থাকে পুরো ক্লাব আর পুরো এলাকা পরিণত হয় নরকে। কিন্তু কয়েকজন ইংরেজ অফিসারের কাছে রিভলবার থাকায় তারা পাল্টা আক্রমণ চালালে প্রীতিলতার বাঁ পাশে আঘাত লাগে। কিন্তু তারপরেও তিনি অপারেশনের নিয়ম অনুসারে সবার পিছন পিছন বেরিয়ে আসতে থাকেন। কিন্তু আরেকজন ইংরেজ অফিসার তাকে তাড়া করলে প্রীতিলতা তার এক সহযোগী কালীকিঙ্কর দে-কে তার মুখে পটাসিয়াম সায়ানাইড ঢেলে দিতে বলেন।ইংরেজের হাতে জীবন দেয়ার চেয়ে আত্মহত্যাকেই শ্রেয় মনে করলেন এই মহীয়সী বিপ্লবী।

এবং অতঃপর : প্রীতিলতার মৃত্যুর অনেকটা সময়ই পেরিয়ে গেলো।তার মৃত্যুর পরপরই তার বাবা প্রায় অপ্রকৃতিস্থ হয়ে যান। আর স্বাভাবিকভাবেই তার পরিবারে নেমে আসলো শোকের কালো ছায়া যা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বহন করেছেন তার বাবা-মা।

এ বীরকন্যার স্মৃতিকে অম্লান করে রাখার জন্য প্রশাসনযন্ত্রের মাত্রাতিরিক্ত ঔদাসীন্য চরম লজ্জাজনক। প্রীতিলতা যেন এখন ভগ্ন স্মৃতিসৌধ দিয়ে ঘেরা নাম। প্রশাসন তার দায় সম্পন্ন করেছে গুটিকয়েক স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের মাধ্যমে। এমনকি এ বীরকন্যার ভিটেমাটির ধ্বংসাবশেষও আজ আর নেই।মহান ধলঘাট সংঘর্ষের গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য যে ফলক নির্মাণ করা হয়েছিলো তা রীতিমত ধ্বংসের পথে।

ইউরোপীয়ান ক্লাবের সেই ঐতিহাসিক ঘরটি রেলওয়ের গুদামঘর। মাঝখানে প্রীতিলতা ফান্ডের আওতায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তার আবক্ষ মূর্তি উন্মোচন করা হয়েছে। আর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তার নামে যে কয়টি হল রয়েছে সেসবেও নেই এ মহান বিপ্লবীকে চেনার সুযোগ। সবচেয়ে লজ্জাজনক ব্যাপার এই যে এ অগ্নিকন্যার বীরত্বগাঁথা আজ পর্যন্ত কোন পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভূক্ত হয় নি, যার কারণে প্রজন্মের কাছে তার বিপ্লবগাঁথা যেন এক কল্পকাহিনী। এমনকি বেশ কয়েকমাস আগে তার স্মৃতিবিজড়িত অপর্ণাচরণ সিটি কর্পোরেশন বিদ্যালয়ে বহুতল ভবন নির্মাণের মত ন্যক্কারজনক উদ্যোগও নেয়া হয়েছে।

তবে গত বছর বেশ ঘটা করেই পালন করা হয় তার জন্মশতবার্ষিকী এবং এ বছরও তার আত্মাহুতি দিবস সাড়ম্বরেই পালন করা হয়। এক্ষেত্রে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, সমাজ সমীক্ষা সংঘ প্রভৃতি সংগঠন বেশ প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখা চলেছে। তবে এজন্য সরকারকেও এগিয়ে আসতে হবে। রাষ্ট্রীয়ভাবে তার প্রতি সম্মান জানানোর ব্যবস্থা করতে হবে। তবেই হয়তো আমরা আমাদের এতো দিনের করা পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে পারবো।

এ অগ্নিকন্যার জন্য আমাদের চোখজুড়ে অশ্রু আর বুকভরা স্ফীত অহংকার।

read more from our partners ReflectiveTeens

Advertisements

Dazzling Simplicity

Posted: September 7, 2014 by CampusWriting in Writes...
Tags: , ,

Wearing a skin-clutching blue dress, she took extra care to justify the occasion.

Sweeping eyelashes over her midnight blue eyes, pink lips, flawless defined curves, edged heels giving her elegance, teaser to the rest.

While others could not have enough of a glance in her direction,

She stood in the doorway, hair swaying by the wind, looking passionately as I arrived. 

Hands on her hips and arching eyebrows she gave me a sheepish smile, ready to receive plaudits.

Did she not know that she could dazzle me by her simplicity alone?

Soumyaa Verma

Faculty of law, MSU, Vadodara


कभी तो बुलाया होगा …मुझे अपने तसव्वुर मे ,
वरना मेरा दिल… यूं ही किसी के लिए बेकरार नही होता !

कभी तो जागा होगा… एक विश्वास मेरे लिए , तेरे अहसासों की हवाओ मे ,
वरना इन हवाओ पर… यूं ही मुझको ऐतबार नही होता !

कभी तो हराया होगा…तूने मेरे अहम को ,अपने तासीर की सीमाओं मे ,
वरना मेरा अहम …यूं ही शर्मसार नही होता !

कभी तो कुछ नशा घोला होगा… तूने भी , इन बहती फिज़ाओ मे ,
वरना मैं कभी… यूं ही इतना तेरा तलबदार नही होता !

कभी तो ‘बादल’ बन छुआ होगा… मैंने तेरे मन की ‘तह’ को , तेरे सौबत के ‘आँगन’ मे ,
वरना तेरी आंखो से वो ‘भीगा’ आँगन …यूं ही इतना खुशगवार नही होता !

कभी तो जीता होगा… मैंने तेरे दिल को , तेरे नफरत की आंधीयों मे ,
वरना तुझे मुझसे… यूं ही प्यार नही होता !

Vishal Maurya

Zakir Husain Delhi College, DU

inspartec@gmail.com

TODAY TOMORROW YESTERDAY

Posted: August 8, 2014 by CampusWriting in Contest, Writes...
Tags: , ,

Tuesday the 29th of April – 201412.15 A.m.

Why it is so that every other love story that we read have a happy ending. Is it so that life always follows the trend that if today it’s sadness then tomorrow it’s gonna be happiness. Can this trend ever stop?
Real life love stories are very different from the fiction ones, but we realize that only at the end, during the whole time we keep asking our self a question that is the story which I am reading somewhere depicts my own real life story too, I believe that it’s just a matter of fact that happiness brings people close but sadness closer, when we read about someone we start keeping our self in their shoes, we become the protagonist of the story, at times we cry, at times we laugh, at times we become sad and the very moment we become happy, our emotions plays a melodrama in front of us which changes with the changing pages of the story book.

But we often forget that one’s own life is a best seller novel indeed, hundreds of stories are hidden in there, every day we experience some strong emotions but sadly we don’t give emphasis on our own story and to keep us busy we start reading someone else’s.

Life is full of irony, the face off with which I just had a few minutes back I was reading a novel by a much cherished and acknowledged author “Ravinder Singh” CAN LOVE HAPPEN TWICE. At times while reading it I had this strong feeling that hey is it my story too but the very next moment I realized that naah it’s just another love story. I came across a few quotes in the novel which I found interesting and thought about sharing the same over SMS with two of my friends, one of whom was my good friend and the other was the gal I loved the most in my life.

“Love like life is so insecure it moves in our lives and occupies its sweet space in our hearts so easily, but it never guarantees that it will stay there forever. Probably that it why it’s so precious”

Just after sending the quote over SMS I came over a section in the novel where Simar finally tells Ravin that she is sorry and she can’t marry him.

Strangely at that sudden moment I found my cel having received a SMS from her, I had mixed feeling coz from the last few months things were not going the way they should had been, but still I was smiling probably over my fate that awaited or coz of the fact that whenever I use to remember her a smile use to spread on my face. But tonight my smile faded, faded the very moment I read the contents of the SMS, a tear rolled down from my eyes, the sight began to become hazy and I felt choked. The tear dried on my cheeks even before falling on the ground, probably because I had cried for her a hundred times before and tonight was the last time I did or probably not. The contents of the massage were piercing every single living cell in my body with every single word with which they were formed and read as follows.

“I am going to get married on 1st of May 2014 and I will be discarding my this number from tomorrow, I am in Varanasi right now will talk once I come(god knows coming where she meant) or will call you from my new number if I happen to take one.”

The very moment and all I could manage was to send her a reply SMS. “Can we talk now?”

That was the least that could have been asked for as that little mattered the most to me at that moment, my life was being held by a thin thread of hope. But I was far away from being lucky, lucky not even for once.
I was constantly turning in my bed, I was restless and sleep was miles away from my eyes, I was waiting for her reply and time began to move in slow motion then I decided to complete the last few pages of the novel while waiting for her reply hoping that at the end every love story have a happy ending and so will mine,but I was wrong. Reality had put a tight slap on my face when I realized that at the end every other love story do have a happy ending but not mine!

In that short span of time I had read that SMS numerous times hoping that on opening the SMS next time some miracle will happen and that SMS may turn out tobe one of the forwarded SMS but no reality is certain and does not changes to the likes and dislikes of human being.

I kept rolling on the bed with my eyes wide spread hoping to find that inner peace so as to aid me in getting some sleep but every attempt of mine got failed and finally I decided to bring my heart out in the open, sadly on paper as at that time of the night I was lonely, I had no one to talk to or the one who was, was the reason why I was in urgent need to calm down my heart beats…………..

Tuesday 29th of April 2014 01.05 A.M.

P.S.Sleep still miles away

Sumit Keshan

sumitkeshan@hotmail.com

Price of your Dreams

Posted: August 6, 2014 by CampusWriting in Contest, Writes...
Tags: , , , ,

The daughter lay on the bed facing her pillow, deep in the vividness of her thoughts.
Her mother asked, ” What is that you dream about?”

“Dream? I’m trying not to dream. There’s always a price you have to pay for your dreams.” She mumbled from inside the pillow.

“Aren’t you paying a price right now, for not dreaming?”
She sat up this time.

“Then which price is higher? Should I dream or should I only live what life brings to me?”

“Life will bring to you what you desire. The choice is between the price you pay for following your dreams and the price you pay for giving up on them. Come, lets go shopping.”

The two went into an expensive shop. The mother told the daughter to look for something that fits her perfectly. The daughter followed. She was surprised at the perfect fit and the high quality of the cloth. She felt confident wearing it.
Then the mother told her to abandon that dress and look for one which was a size bigger. The new dress hung loose on her. She did not look very pretty in it neither did she feel comfortable. The mother asked her to buy the loose dress.

“But it doesn’t even fit me, mother. Its of no use.”

“So what? It covers you, that’s the purpose right?”

“No that’s not the soul purpose. If it was so, why don’t I drape a cloth around me. That would cover me equally well.”

The mother then asked the shopkeeper the price of both the dresses. “The price is the same. They’re both equally costly, the only difference is their size.” Replied the shopkeeper.

The mother explained, “Living your dreams and giving up on them both have a high price to pay. Only one is a perfect fit and elevates you, while the other, as you said, is of no use to you.
When you did not give up on the dress even when I insisted, why give up on your dreams for any reason in the world?”

The mother is right. She teaches not only the daughter but us all a lesson. There is always a price to pay, it is on you to decide what it has to be paid for.

Go on. Dream freely. Live your dream. Then dream again.

Soumyaa Verma

Faculty of law, MSU, Vadodara

Beauty Lies Within

Posted: July 3, 2014 by CampusWriting in Contest, Writes...
Tags: , , , ,

As the rays of the rising sun, touched her lashes, she woke up looking forward to the day ahead. Sundays had always been special. A day with her family, different from the daily activity of schooldays and exams, venturing the hotspots of New Delhi. Being the first Sunday of December, her favourite month, made it all-the-more exhilarating. She loved how the seemingly warming rays of the sun would coalesce with the surrounding haze to give a twinge of chill, marking the welcome of Winters. To her dismay, her parents were working that day. She dragged herself through the corridor with dampened spirit and hopes, thinking about her lashed down plans. Without further fussing, she grabbed her laptop, sat on the couch and logged into Facebook. The only interesting, current hot topic had been Delhi Elections. Scrolling down through the news feed filled with aimless and meaningless posts by people, she came across a poem. Unlike pieces of writing, this rare one gave her mind a good exercise. It talked of a girl, who got a box of crayons for Christmas. The girls started filling the paper with her unparalleled, imaginative world of colours and dreams, similar to other kids, yet unique in her own way. She then came across a crayon, “SKIN”, that didn’t match her own colour. 
The girl in this poem reminded her of the comments and taunts she had endured while growing up.

“Don’t play too much in the sun! You’ll grow darker and no boy would marry you!”

“Kaali ho rahi hai tu. Go and take bath!”

“Is colour me kaali lag rahi hai. Change the dress!”

This, she came across a boy telling his mates.

“I would date a girl who is fair and tall, like Hollywood Actresses.”

The wounds of the past lay open, fresh, as she struggled through her memory of the childhood, that she realised, was shared by many other girls of this fine country. A scene of her childhood set staging before her eyes, where she was going to a toy store hand-in-hand with her Dad. He jokingly asked her to buy the Indian Bride Barbie and laughed. Even the child in her preferred a sleek, fair Barbie. All the cartoons, Disney princesses she loved during childhood had been fair! She reminisced the times when she was told, how her brown,tanned skin had been a set back in compared to her lean body, long straight hair and sharp mind. Stepping back to reality, she questioned, if it was the society to be blamed for not accepting their brown complexion or herself for being quiet about the rants she grew up hearing. Where the minds of children are shaped at a tender age, why are they made to realize that having a brown skin is an insult? Wouldn’t this carry on to the coming generat ions? 
She switched the laptop off. Got up, and caught a glimpse of herself in the mirror. Apart from the baggy oversized sweater and her hair, undone, suddenly the brown skin she always loathed, seemed astonishingly pristine. Suddenly she thought how beautifully it merged with the golden of the Sun, and her brown eyes. All the taunts seemed irrelevant. All the logics seemed useless. 

“Beauty lies within the eyes and soul of a person, not in the colour of skin.”
With this thought she walked out to bring a change, feeling ecstatic about her newly found dignity. 

Anushka Anand

Brown n’ Proud

Reverie

Posted: June 29, 2014 by CampusWriting in Writes...
Tags: , ,

I wonder if you could,
Hear my heartbeat in your sleep,
Recognize the sound of my voice,
In your dreams,
And feel my hands,
Wrapped around yours.
Because I fall asleep,
With letters of your name,
Written on my heart,
And I could hear your voice,
Whispering the sweet melody,
Of everything I wanted to hear,
Because when everybody would dream of pixies,
I’d be dreaming of you.

Devesh Baheti

Institute Of Aeronautical Engineering

deveshbaheti84@gmail.com

Dhundh Do Na Mujhe

Posted: June 20, 2014 by CampusWriting in Contest, Writes...
Tags: , , , ,

ये क्या हो रहा है मुझको,,
क्या खबर भी है तुझको….???

रोता हूँ मगर आँसू गिरते नहीं….
हँसता हूँ मगर होठों पे हँसी सजते नहीं…???

कहाँ गयी वो मेरी खिलखिलाहट,
वो कोमल सी मेरी रूमानियत….??
कहाँ गयी वो मेरी हिम्मत..
वो हमेशा साथ रहने वाली नम्रत…??
कहाँ गयी वो मेरी बातें…
वो शांत सुन्दर रातें…
कहाँ गयी वो मेरी अपनी मुस्कराहट…
वो मेरी अपनी हिचकिचाहट….
करते है सब खुसफुसाहट….
कि बदल गया है रजत……
मगर क्या कभी
किसी ने मेरे नजदीक आकर
थोरा सा प्यार दिखलाकर..
थोरा मेरे माथे को सहलाकर.. 
थोरा मेरे कपोलो को छूकर…
थोरा प्यार से पूछा की क्यों………..?????

क्या यही सिला होता है सबसे प्यार करने का
सबसे खिलखिला के बात करने का???

अब तो साली मौत भी मुझसे रूठ गयी है..
क्यों मैं खुद को संभाल नहीं पा रहा हूँ..
क्यों मैं सभी को डाट दे रहा हूँ…
क्या मैं ऐसा ही था या अब हो रहा हूँ….
कोई बताओ मुझे….. कोई तो समझो मुझे और समझाओ मुझे…
मेरी आँखों का प्यार लौटाओ मुझे….
मेरी बातों की मिठास लौटाओ मुझे
उस रजत को लौटाओ ना मुझे….

मैंने खो दिया है खुद को… मुझे ढूंढ दो न कोई….
मुझे ढूंढ दो न कोई….
मैं खो दूंगा वरना अपना अस्तित्व…. ढूंढ दो न मुझे…..

Rajat Ranjan

NIFT Bhubaneswar

rajatr81@gmail.com

Mixed Emotions

Posted: June 17, 2014 by CampusWriting in Writes...
Tags: , , , ,

Its like we were stuck in a quandary,
Bored out of limits or any boundary.
Stuck in a room where it hurts to breathe,
Had no option but to grind our teeth.

Numb in the brain, weak in the head,
It was painful to even get out of bed.
Didn’t have nobody to speak to, nobody to complain,
Only hearing the noises of cars, buses and train.

To come undone with a change in attitude was all I needed,
Eh! what was I thinking? Was I weeded?
To be who I am today is all I wanted,
Though I was penalised, teased and taunted.

Change is good is what they say,
But I’m not changing.. Even if they may.
Because I’ve dreaded too far to be myself today,
So this is my place, and I’m here to stay.

Abhishek Mantri

abhishekmantri9@gmail.com

Are we truly Independent?

Posted: June 11, 2014 by CampusWriting in Writes...
Tags: , , , , , ,

Patriotism isn’t my cup of tea,
‘Cause I’m not blinded by the love for my country.
Blinded to see what’s going on,
Politics, corruption and what all has gone.

Independence means free from outside control,
Written in the constitution.. For India it was a major stroll.
15th August 1947 was a big day indeed,
When our freedom fighters sow on the world map another independent seed.
They thrusted on us the future of this seed,
To make it a big flowering tree.. Or an ordinary weed.

But after 66 years I wouldn’t hesitate to say,
Alas! We took the wrong way.
Years passed by and we aren’t truly independent,
Failed to carry the vision from our descendants..

Poverty is bottom of a pyramid in this country,
‘Coz everyone wants to fill their pockets.. Be it businessmen, trader or a corrupt selfish Mantri.
Safety is another hell of an controversy,
Which we often happen to over see.

Why are girls still penalised for what they have not done?
Why does everyone still want a son?
Why aren’t some people allowed to express their opinion?
Why are the prices so high of petrol and onion?

I fail to understand what the people of this country are happy about,
While the wall between the rich and the poor is quite stout.
There is a ray of light in the darkest of caves they say,
I hope a juncture will come when we’d truly say Happy Independence Day!

Abhishek Mantri

abhishekmantri9@gmail.com